সিলেটের খাদিমপাড়ায় অর্ধশত বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের ফলে গত কয়েক মাস ধরে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে সাতটি পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী আবদুল খালিক বক্স এই দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এই ঘটনায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খাদিমপাড়া এলাকার ২ নম্বর রোডে (বহর মৌজা) অবস্থিত এই রাস্তাটি ৭টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। ভুক্তভোগী জামাল আহমদ কামালের অভিযোগ, আবদুল খালিক বক্স তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় খালিক বক্স ৮ ফুট উঁচু দেয়াল তুলে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানায় চাঁদাবাজির মামলা ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিসিক তদন্ত করে দেয়ালটি অবৈধ প্রমাণ পায় এবং উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অভিযানটি হঠাৎ স্থগিত করা হয়। উল্টো ২৪ নভেম্বর সিসিক ভুক্তভোগী পরিবারকেই আদালতের শরণাপন্ন হতে নোটিশ দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলা ছাত্রদলের এক নেতা এবং সিসিকের প্রকৌশলী এটিএম সাইদুল ইসলামের প্রভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও প্রকৌশলী সাইদুল এবং অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর জানান, মামলা চলমান থাকার ‘মৌখিক’ তথ্যের ভিত্তিতে তারা পিছু হটেছেন। কোনো আদালতের লিখিত নিষেধাজ্ঞা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, লিখিত কোনো কাগজ পাইনি, মৌখিকভাবে জানতে পেরে নোটিশ করেছি।
অন্যদিকে, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন তবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
শাহপরাণ থানা ও সাবেক ভূমি মালিকের তথ্যমতে, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিনের ‘সরেয়াম রাস্তা’ এবং এর নিচ দিয়ে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন রয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অন্যের জমির আইল দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।