সিলেটের জকিগঞ্জে সংবাদ প্রকাশ ও পূর্ববতী মামলার জেরে এক সাংবাদিকের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং সপরিবারে হত্যার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক এমাদ উদ্দিন এনাম মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাতে জকিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এমাদ উদ্দিন এনাম অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘একুশে সিলেট’-এর জকিগঞ্জ প্রতিনিধি (স্টাফ রিপোর্টার)। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. রুবেল আহমদ ওরফে আলুয়া রুবেল (৩২)। তিনি উপজেলার নিয়াগুল গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন চিহ্নিত মাদক ও চোরাকারবারী।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান বিষয়ে ৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পত্রিকায় এমাদ উদ্দিন এনামের একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়। এর জেরে আলুয়া রুবেলের নেতৃত্বে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ওই হামলার ঘটনায় এনাম বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৪) দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগ আমলে নেয়। সম্প্রতি ওই মামলার প্রধান দুই আসামি আদালতে জামিন চাইলে আদালত একজনকে জামিন দিলেও হামলার হুকুমদাতা কয়েস আহমদের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কয়েস আহমদ অভিযুক্ত রুবেলের ভাই।
ভাই কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাদক সিন্ডিকেটের হোতা রুবেল। অভিযোগ রয়েছে, রুবেল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নম্বর থেকে সাংবাদিক এনামকে হুমকি দিচ্ছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সন্ত্রাসীরা এনামের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, তাকে প্রাণে মারা এবং তার ছোট ছেলে-মেয়েদের গুম করার হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক এমাদ উদ্দিন এনাম বলেন, জকিগঞ্জ সীমান্ত বাংলাদেশের ৭টি প্রধান চোরাচালান রুটের মধ্যে অন্যতম। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার ওপর হামলা হয়েছিল। এখন মামলার প্রধান আসামি কয়েস কারাগারে যাওয়ায় তার ভাই আলুয়া রুবেল ও তার বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং বাচ্চাদের গুম করার হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলেও জকিগঞ্জের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে আজ আমি ও আমার পরিবার হুমকির মুখে।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সাংবাদিক এনামের অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।