মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর সহকারী, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলীকে সিলেটের কানাইঘাটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই পশ্চিম জামে মসজিদ মাঠে নামাজে যানাজা শেষে মহল্লার কবরস্থানে তাহাকে চির নিদ্রায় সমাহিত করা হয়।
মঙ্গলবার রাত আড়াই টার দিকে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বুধবার বেলা ২টায় ঢাকার পল্টন জামে মসজিদে তার প্রথম নামাজে যানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার শেষে দ্বিতীয় যানাজার পর দাফন করা হয়েছে। দাফনের পূর্বে যানাজার নামাজে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় লোকজন, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানা যায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী গণির সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুত্বর আহত হন। এতে তিনি বাক ও শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী জীবনের বাকি সময়টুকু বোবা ও শ্রবণশক্তিহীন অবস্থায় কাটিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ঢাকার পুরানা পল্টনে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত বাসস্থানে বসবাস করতেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা ওসমান গণি তাঁকে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৪টি বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। সরল-সহজ মানুষটি জীবনে কারো কাছে কিছু চাননি, এ জন্য তার ক্ষোভ কিংবা কোন অভিমানও ছিল না। অবশেষে মঙ্গলবার রাত আড়াইটায় ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তজম্মুল আলী মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায় মৃত্যুকালে তাহার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি নন্দিরাই গ্রামের মরহুম তছদ্দর আলীর পুত্র। স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।