সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় গ্রাহকদের সঞ্চিত প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে। সংস্থাটির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত গ্রাহক।
এ ঘটনায় সংস্থাটির মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকার জামালগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে শারফিন গাছসংলগ্ন বিপ্লব পালের ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও মাঠকর্মীদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) এবং দৈনিক সঞ্চয় কর্মসূচির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত চার বছরে সংস্থাটি সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা জমা নেয়। সম্প্রতি গ্রাহকেরা মেয়াদপূর্তির টাকা উত্তোলন করতে গেলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে গত ১৭ জুলাই সকালে গ্রাহক ও মাঠকর্মীরা অফিসে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।
মাঠকর্মী সীমা রাণী সরকার জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি অফিসে গিয়ে দরজায় তালা দেখতে পান। পরে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, “আমি গত চার বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিদিন গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কাছে জমা দিতাম। এখন অফিস বন্ধ, কর্মকর্তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি নিজেও প্রতারিত হয়েছি। গ্রাহকদের টাকা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই জামালগঞ্জ থানায় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার, তার স্বামী এবং আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ২২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সীমা রাণী সরকার।
অভিযুক্ত ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জেসমিন আক্তার ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর জামিনুর হক বলেন, “গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে সঞ্চয়ের অর্থ ফেরতের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।