নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) হুমায়ুনুর রহমান লেখনের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন না করে বরাদ্দকৃত টাকা পকেটে ভরা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ (One Child, One Tree) কর্মসূচির আওতায় গত ২৯ জুন মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে বৃক্ষ রোপণ করার নির্দেশনা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে গত ২৫ জুন একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। তবে সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব নির্দেশনাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন অধ্যক্ষ হুমায়ুন। মাদ্রাসায় উক্ত কর্মসূচি পালন না করে উল্টো বৃক্ষ রোপণ বাবদ সরকারি বরাদ্দের টাকা তিনি সম্পূর্ণ আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গত ২৯ জুলাইয়ের অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, স্থগিতকৃত পরীক্ষাটি যেন আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) এর মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু সরকারি এই সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা না করেই স্থগিতকৃত তারিখেই (২৯ জুলাই) পরীক্ষা নেন অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখন।
সরকারি প্রজ্ঞাপন ও অধিদপ্তরের নির্দেশনাকে এভাবে বারবার অমান্য করার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি অর্থের নয়ছয় বন্ধে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।