মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও সৃজনশীলতা যখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে, তখন সেই একঘেয়েমি কাটিয়ে নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে জামালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। রঙ-তুলির আঁচড়ে নিজেদের কল্পনা, আবেগ ও স্বপ্নকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া শতাধিক শিশু-কিশোর।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে ‘জামালগঞ্জ শিশু-কিশোর সংগঠন’-এর উদ্যোগে স্থানীয় রিভার ভিউ পার্কে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোররা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অংশ নেয়। তাদের আঁকা ছবিতে প্রকৃতি, দেশপ্রেম, পরিবার, পরিবেশ ও সমসাময়িক নানা ভাবনা স্থান পায়।
প্রতিযোগিতার বিচারক আলী আক্কাছ মুরাদ বলেন, “শিশু-কিশোরদের একঘেয়েমি দূর করার জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা একটি আদর্শ মাধ্যম। শিশুদের মনের ভাব চিত্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা কঠিন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হলেও আমার দৃষ্টিতে এখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিশুই বিজয়ী।”
অভিভাবক লাভনী সরকার বলেন, “আমার মেয়ে শুভমিতা লগ্ন শিশু বিভাগে প্রথম হয়েছে। তবে সে প্রথম না হলেও আমার কোনো আক্ষেপ থাকত না। কারণ এ ধরনের আয়োজনে অংশগ্রহণই শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা ও অর্জন।”
উপজেলা মানবাধিকার সংগঠনের সভাপতি নুরুল হক বলেন, “বর্তমানে শিশু-কিশোরেরা মোবাইলের প্রতি অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের মানসিক আনন্দ ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ করে দিতেই এই আয়োজন। শিশুদের মুখে যদি কিছুটা হাসি ও মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলেই আমাদের উদ্যোগ সফল হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগীত শিক্ষক ননী গোপাল তালুকদার, রুবেল তালুকদার, আল আমিন, চিত্রাঙ্কন শিক্ষক মিজানুর রহমান মিজান এবং রিংকু বৈদ্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশ ও মোবাইল আসক্তি কমাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।