মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

ওসমানীনগরে সামাদ হত্যা: ২ ‘খুনি’কে নারায়ণগঞ্জ থেকে ধরল র‍্যাব

সিলেটের ওসমানীনগরে রাস্তার বিরোধ নিয়ে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে আব্দুস সামাদ (২৮) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব-১১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন আনন্দবাজার ও বৈদ্যর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার কিত্তে কমরপুর গ্রামের আব্দুস জব্বারের ছেলে ও মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিল মিয়া (২৪) এবং মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে ও ৩ নম্বর আসামি রুবেল মিয়া (২২)।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ৫ মার্চ বিকেলে। ওসমানীনগরের কিত্তে কমরপুর এলাকায় বিবাদীদের বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে ভিকটিম আব্দুস সামাদের চাচা আব্দুল বারিক বাড়ি নির্মাণের ইট ও বালু নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষ রফিকুল ইসলাম ও সফিক মিয়া বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মিমাংসার জন্য পরের দিন ৬ মার্চ রাতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।

গত ৬ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জনৈক মাসুক মিয়ার বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। আলোচনার একপর্যায়ে বিবাদীরা উত্তেজিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র, চাকু, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ভিকটিমের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আব্দুস সামাদ তার পরিবারকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। র‍্যাব-৯ এই হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে র‍্যাব-১১ এর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে পলাতক এই দুই মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব।

র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে র‍্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো