সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কামারখাল উপস্বাস্থ কেন্দ্রে পাঁচটি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ও মিড ওয়াইফ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ-দিরাই তিন উপজেলার কলকলিয়া, জগদল, দরগাপাশা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা কামারখাল উপস্বাস্থ কেন্দ্রে। তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে কামারখাল উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে শুরুর পর থেকেই জনবল ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপস্বাস্থ কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।
আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে পাওয়া না গেলেও একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহিদুল্লা কায়সার একাই কঠোর পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত। তাও সপ্তাহে দুই দিন। যেখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর শতাধি থাকে সেখানে একজন দিয়ে এই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চলছে না, মনে হয় সচল এই উপস্বাস্থ কেন্দ্রটি নিজে রোগাক্রান্ত হয়ে অচল হয়ে যাচ্ছে লোকবল ও ঔষধ সংকটের কারনে।
সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসা সেবা পেয়েও এলাকার জনসাধারণ উপসহকারী মেডিকেল অফিসার শহিদুল্লা কায়সার এর প্রতি সন্তুষ্ট। সেবা নিতে আসা রোগীরা তাকে দেখলে তাদের মন আনন্দে ভরে যায়। মনে হয় যেন চিকিৎসা ছাড়াই তারা ভাল হয়ে গেছেন। চিকিৎসা সেবা নিতে আসলে রোগীরা ভালো সেবা পায়। যার ফলে এই এলাকার স্থানীয় জনসাধারণ তাকে মনেপ্রানে ভালোবাসে। ২০০৮ সাল থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে ঔষধ বিভাগে কাজ করে যাচ্ছেন কামারখাল গ্রামের মাওলানা জয়নুল আবেদীন।
কামারখাল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার শহিদুল্লা কায়সার বলেন, আমার এই উপস্বাস্থ কেন্দ্রে জনবল সংকট রয়েছে এখানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহকারীর পদ শুন্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তিন উপজেলার মোড়ে অবস্থিত হওয়ায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা, দিরাই উপজেলা ও জগন্নাথপুর উপজেলার শেষ প্রান্তের গ্রামগুলোর মানুষ এই উপস্বাস্থ কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নিতে আসায় সরকার আমাদের যে পরিমান ঔষধ প্রদান করেন তা দিয়ে সামাল দেয়া যায় না। ঔষধের তুলনায় রোগী বেশী। তাই সরকার যদি আমাদের ঔষধ বাড়িয়ে দেয় তাহলে ঔষধ সংকট থাকবেনা।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কামারখাল গ্রামের নুহেল আহমদ বলেন, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধের তুলনায় রোগী বেশী যার ফলে আমাদের ঔষধ না পেয়ে ঔষধের দোকান থেকে ঔষধ কিতে হয়। যদি রোগীর তুলনায় ঔষধ সরবরাহ বেশী থাকতো তাহলে আমরা ঔষধ সংকটের শিকার হতাম না। কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের একটাই দাবী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল নিয়োগ দিয়ে ও ঔষধ সংকট দুর করে চিকিৎসা সেবা থেকে যাতে মানুষ বঞ্চিত না সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান।