সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সোহাগ মিয়া (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সোহাগ দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের টেবলাই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। রবিবার দুপুরে স্থানীয় পেইক্কার হাওর এলাকার একটি গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেবলাই গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সোহাগের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মেয়ের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর একপর্যায়ে মেয়ের পরিবারের সদস্যদের হাতে সোহাগ লাঞ্ছিত ও প্রহৃত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ক্ষোভ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। এর আগে শনিবার সকালে স্থানীয় পেইক্কার হাওরে গবাদিপশু চরাতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সোহাগ। স্বজনেরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর হাওরের একটি গাছের মগডালে তাঁর মরদেহ ঝুলতে দেখেন।
পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বটু ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের মা শজিফা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে সোহাগ গ্রামের একটি মেয়েকে ভালোবাসত। আমরা একাধিকবার বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেও মেয়ের পরিবার তাতে রাজি হয়নি। উল্টো তারা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এরই জের ধরে অপমান সইতে না পেরে আমার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমি এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চাই।’
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।