টস ভাগ্য ফের বাংলাদেশের পক্ষে। প্রথম ওয়ানডের সাফল্যে ভর করে ফের আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে প্রথম ওয়ানডের মতো দ্রুত কোন সাফল্য আসেনি। বরং, এদিন থিতু হয়ে বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগান দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। তাদের বিদায়ের পর সেই সম্ভাবনা ধরে রাখেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা। শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবতায় পরিণত করতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে। এই লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ১৫ রানে হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। সেখান থেকে ২৭ রান করতেই নামে বৃষ্টি। এই বৃষ্টি বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলা মাঠে গড়ালেও জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস থামে ১১৪ রানে। তাতে ১২৮ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। এই জয়ে সিরিজে সমতা ফেরালো পাকিস্তান।
বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ২৭। প্রায় ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর খেলা মাঠে গড়ায়। দারুণ ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে ভালোই জবাব দিচ্ছিলেন লিটন দাস। তবে মাজ সাদাকাতের ভেতরে ঢোকা বল বুঝতে না পেরে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। ৩৩ বলে ৪১ রানে ফেরেন লিটন।
তার বিদায়ের পর উইকেট পতনের মড়ক লাগে বাংলাদেশের। লম্বা সময় পর দলে ফেরা আফিফ হোসেন ধ্রুব-মেহেদি হাসান মিরাজরা নিতে পারেননি দায়িত্ব। আফিফ খানিকটা আশা জাগিয়ে ১৫ বলে ১৪ রান করে আউট হন। আর মিরাজ আউট হন ৫ বলে ১ রান করে। রিশাদ কিংবা তাওহিদ হৃদয়রাও আর টানতে পারেননি দলকে। পাকিস্তান বোলারদের তোপে তারাও দ্রুত ফেরেন প্যাভিলিয়নে। হ্যারিস রউফের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ৩৮ বলে ২৮ রান করে আউট হন হৃদয়। রিশাদ ৫ বলে করেন ২ রান।
পাকিস্তানের হয়ে বৃষ্টির আগে বল হাতে তোপ দাগেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। শেষ পর্যন্ত তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৫ ওভারে ২২ রানে দুই উইকেট। বৃষ্টির পর নায়ক হয়ে ওঠেন পার্টটাইমার মাজ সাদাকাত ২৩ রানে তার শিকার ছিল তিন উইকেট। এছাড়া হ্যারিস রউফ ২৬ রানে নেন তিন উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল দারুণ। আগের দিনে সাফল্য এনে দেওয়া বাংলাদেশের পেসারদের বিপক্ষে তাদের শুরুটা ছিল আগ্রাসী। ফারহান ও সাদাকাতের ব্যাটে আসে ১০৩ রানের জুটি। একপ্রান্তে সাহিবজাদা ফারহান রান করতে সংগ্রাম করলেও সফল ছিলেন সাদাকাত। বোলারদের উপর একরকম তান্ডব চালিয়ে ৪৬ বলে খেলেন ৭৫ রানের দারুণ এক ইনিংস।
তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৫ ছক্কা। এমন শুরু এনে দিয়ে মাজ সাদাকাতের বিদায়ের পর তিনে নামা শ্যামিল হুসেইন বড় করতে পারেননি নিজের ইনিংস। আগের ম্যাচেও রান করতে সংগ্রাম করা এই ব্যাটার ২২ বলে ৬ রান করে আউট হন। মাঝে ফারহান আউট হন ৪৬ বলে ৩১ রান করে। তাতে ৩ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২২ রান।
টানা তিন উইকেট হারিয়ে বসা পাকিস্তানকে তখন সামনে দিকে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব নেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনে মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১০৯ রান। দেখেশুনে বাংলাদেশি বোলারদের খেলা এই দুই ব্যাটার যেভাবে এগোচ্ছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল বড় সংগ্রহ পেয়ে যাবে পাকিস্তান।
তবে বিধিবাম! সালমান ৬২ বলে ৬৪ রান করে মিরাজের বলে রানআউটের শিকার হলে থামে পাকিস্তানের রানের চাকা। এই আউট নিয়ে নানান বিতর্ক তৈরি হলেও ঘটনাটি ছিল নিয়মের মধ্যে। নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান ক্রিজ থেকে বেরিয়ে সামনে এগিয়ে আসেন। রিজওয়ান শট খেলার পর সেই বল আটকে মিরাজকে দিতে উদ্যত হন। এর আগেই বল হাতে নিয়ে তাকে রানআউট করেন মিরাজ।
তার বিদায়ের এক বল পরই ফেরেন রিজওয়ান। ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন ফেরেন রিজওয়ান। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের ইনিংসে ছিল ৫ চার। তাদের দুজনের বিদায়ের পর পাকিস্তানের বাকি ৬ ব্যাটারের কেউই থিতু হতে পারেননি উইকেটে। আব্দুল সামাদ ৭ বলে ১১ আর ফাহিম আশরাফ ১৫ বলে করেন ১৪ রান। বাকিরা আউট হন সিঙ্গেল ডিজিটে।
পাকিস্তানের লোয়ার ও লোয়ার-মিডল অর্ডার থামিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। নিজের শেষ তিন ওভারে শিকার করেন তিন উইকেট। ৫৬ রানে তিন উইকেট শিকার করে তিনিই ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা বোলার। এছাড়া ১০ ওভারে ৩৪ রান খরচায় দুই উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
পাকিস্তান- ২৭৪/১০, ৪৭.৩ ওভার (সাদাকাত ৭৫, সালমান ৬৪, রিশাদ ৩/৫৬)
বাংলাদেশ- ১১৪/১০, ২৩.৩ ওভার (লিটন ৪১, হৃদয় ২৮, সাদাকাত ৩/২৩)
ফলাফল- পাকিস্তান ১২৮ রানে জয়ী (ডিএলএস মেথড)
ম্যাচসেরা- মাজ সাদাকাত।