বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
রাজনীতি

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে রাষ্ট্রীয় গাফিলতির অভিযোগ ইনকিলাব মঞ্চের

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দাখিল করা চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে রাষ্ট্রের তদন্তে চরম অসহযোগিতা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে ইনকিলাব মঞ্চ। মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আজ আদালতে শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটের পর্যালোচনা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে গত ১২ তারিখ প্রথম শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য আইনজীবীরা সময় চেয়েছিলেন। আজকের শুনানিতে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিটের বিরুদ্ধে ‘নারাজি’ জানানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন:

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হত্যার রাতে রাত ১২টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের ফোন করে ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে সহায়তা চায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের অনুরোধ জানায়। অথচ ঘটনার আগে-পরে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর এমন অসংগঠিত আচরণ রহস্যজনক।

আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করে বলেন, আমি নিজেই মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত থানার পক্ষ থেকে মামলার কোনো কপি দেওয়া হয়নি। শাহবাগ, মতিঝিল ও পরবর্তীতে পল্টন থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করলেও পুলিশ মামলার কপি সরবরাহ করেনি।

তিনি বলেন, এদিকে একদিন বলা হচ্ছে আসামি ভারতে পালিয়েছে, আরেকদিন বলা হচ্ছে ঢাকায় রয়েছে। ডিবি জানায় মেঘালয়ে অবস্থান করছে, কিন্তু মেঘালয় পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে জানায় তারা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

চার্জশিট প্রসঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, এই তদন্ত প্রতিবেদন পুরোপুরি অস্পষ্ট ও দুর্বল। মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম এতে নেই। হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে একটি সংঘবদ্ধ খুনি চক্র কাজ করেছে, তা চার্জশিটে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চার্জশিটে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র ক্ষোভ থেকেই যদি হত্যা করা হয়, তাহলে দুই মাস ধরে তাকে নজরদারিতে রাখার দরকার ছিল না।

তিনি আরও বলেন, হত্যার দিন পাঁচজন শ্যুটার প্রস্তুত ছিল- একজন ব্যর্থ হলে অন্যজন গুলি করত। ২১ জনের একটি টিম এই মিশনে ছিল বলে তথ্য রয়েছে। কিন্তু চার্জশিটে বাকি চারটি গ্রুপ ও টিমের কোনো উল্লেখ নেই।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, রাষ্ট্রের ধারাবাহিক অসহযোগিতার কারণে সন্দেহ জাগে- এই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রের কেউ জড়িত কি না।

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে যদি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, কিংবা সেনাপ্রধান, আওয়ামী লীগ, এমনকি শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতাও থাকে সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বড় বড় রাজনৈতিক দল বিচার দাবিতে দেখা পর্যন্ত করেনি। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। এই দ্বিচারিতা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।

'হত্যার আগেই জিডি করেছিলেন ওসমান হাদি'

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার আগে ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে জানান, দেশি-বিদেশি নম্বর থেকে নিয়মিত হত্যার হুমকি পাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন,ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা প্রথমে অস্বীকার করে যে কোনো জিডি করা হয়নি। পরে সংগঠনের কাছে সংরক্ষিত জিডির কপি দেখালে পুলিশ বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, জিডিতে থাকা ফোন নম্বরে গত এক বছরেও পুলিশ কোনো যোগাযোগ করেনি। অর্থাৎ জিডি গ্রহণ করলেও কোনো ধরনের তদন্ত বা নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।

ফের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা:

সংবাদ সম্মেলনে জাবের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামীকাল শুক্রবার বাদজুমা শহাবাগসহ সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার যেন সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিচারের মতো যুগের পর যুগ ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। আমরা আমার ভাইয়ের রক্তের বিচার নিয়েই রাজপথ ছাড়বো। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব রাজপথ ছাড়বে না।

এই সম্পর্কিত আরো