বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
রাজনীতি

২১ জানুয়ারির পর নামবেন নির্বাচনী প্রচারে

নির্বাচন সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারেক রহমান

দেশে ফিরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। নিয়মিত রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অফিস করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

এসব বৈঠকে রাজনীতির পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন-পরবর্তী দেশ গঠন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে মুক্তির উপায়সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন তারেক রহমান। সময় পেলে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করছেন। ঢাকায় এই ব্যস্ততার ফাঁকে দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী ১১ জানুয়ারি পৈতৃক জেলা বগুড়া সফরে যাবেন তিনি। দুদিনের সফরে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত সদ্যপ্রয়াত দলীয় চেয়ারপারসনের রুহের মাগফিরাত কামনায় গণদোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এ ছাড়া রংপুরে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ (সদর) আসনেও বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমান।

জানা গেছে, রাজনীতিবিদদের মধ্যে আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপির সমর্থনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করা দলগুলোর নেতারাই মূলত তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। বিজয় নিশ্চিতে তাদের জন্য বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসনে কোনো ব্যানারেই যাতে দলের নেতারা নির্বাচনের মাঠে না থাকেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তারেক রহমানকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানাচ্ছেন জোট নেতারা।

মনোনয়ন না পেয়ে অর্ধশতাধিক আসনে ‘অভিমানী নেতারা’ স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আবির্ভূত হয়েছেন। বিদ্রোহী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এসব প্রার্থী দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধানের শীষ এবং জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা যাতে নির্বাচন থেকে সরে যান, সেজন্য দ্রুততম সময়ে তাদের সঙ্গে বসতে পারেন তারেক রহমান।

নির্বাচনী প্রচারেও নামবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দলের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিভাগীয় পর্যায়ে জনসভার পাশাপাশি ঢাকার কয়েকটি আসনেও ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নামবেন তিনি। এর বাইরে ঢাকা-১২সহ জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও যেতে পারেন তারেক রহমান। তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। জানা গেছে, প্রয়াত মায়ের মতো সিলেটে দুই সুফি সাধকের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এদিকে, গত কয়েকদিনের সাক্ষাতের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবারও গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। সকালে বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ‘একাত্তরকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদীসহ সবাইকে নিয়ে একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তার আছে।’

সাক্ষাতের পর বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এ তথ্য জানান। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার ছেলেকে সমবেদনা জানাতেই মূলত ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নেতারা সেখানে যান।

বৈঠকে ছিলেন সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ প্রমুখ। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, তারেক রহমান একটা জিনিস বলেছেন যে, আমি তো ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরেই বক্তব্যে বলেছি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশে এর অস্তিত্ব থাকে না। কাজেই সেটা ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, সেগুলোকে ধরেই আমাদের অগ্রসর হতে হবে।

ফিরোজ আরও জানান, বৈঠকে তারেক রহমান আরও বলেছেন, এখানে বিশ্বাসী থাকবে, অবিশ্বাসী থাকবে, সংশয়বাদী থাকবে—সবাইকে নিয়েই আমাদের এখানে চলতে হবে। একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক যে রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমরা সেভাবেই কাজ করতে চাই এবং অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই; জনগণ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের যাতে সুবিধা হয়, সুবিধাগুলো যাতে উপভোগ করতে পারে, সেটা শুধু পরিকল্পনা না, সেটা ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকেও আমরা যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের বিরোধী দল থাকবে, অপজিশন থাকবে। আপনাদের সঙ্গে হয়তো অনেক বিষয়ে আমাদের মতপার্থক্য আছে, থাকবে; কিন্তু আবার দেশের প্রশ্নে, জনগণের প্রশ্নে সেগুলো আমরা নিশ্চয়ই বিনিময় করব। মাঝে মাঝে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদের দেবেন। যেটা গ্রহণ করার সেটা আমরা গ্রহণ করব।

এ ছাড়া মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক ঐক্য, জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলন, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের নেতৃত্বে জমিয়ত, মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে এবি পার্টি এবং মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতারাও পৃথকভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তারা খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে সেখানে শোক বইয়েও স্বাক্ষর করেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম গতকাল দুপুরের দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে শোকবার্তাটি পৌঁছে দেন।

এর আগে গত রোববার দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা জানান। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিল্প খাতে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও আমলাতান্ত্রিক হয়রানির কথা জানান তারা। ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে তার দল ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতই বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

বিএনপি আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশার মানুষ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে একটা যোগসূত্র তৈরি করতে চায় বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। গতকাল বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) প্রকাশিত এক জরিপে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে যাচ্ছেন। আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এই জনমত ১৯ শতাংশ।

জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘদিন পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। সবার মধ্যে ধারণা, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করবে বিএনপি। এ অবস্থায় অনেক পক্ষই তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চাইবে। এখানে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তারেক রহমানের আসাটাকে তারা যে সমর্থন করেন, সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সৌজন্যবশত তাকে সম্মান ও অভিনন্দন জানানো। দ্বিতীয়ত, বিএনপির প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে আস্থায় রাখা। মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটা কানেকশন তৈরি করতে চান। অন্যদিকে তারেক রহমানের জন্যও এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া দরকার। কারণ, তাদের সঙ্গে তার কথা বলা, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। এটা তারেক রহমানের জন্য সম্মানেরও।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে লাখ লাখ জনতা তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানান। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে মাকে দেখতে যান তিনি। পরে তিন দিনের দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দেশে ফেরার পরদিন দীর্ঘ ১৯ বছর পর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে প্রয়াত বাবা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এরপর ওইদিনই একাত্তরের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে যান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। তবে সূর্যাস্তের আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছাতে না পারায় তারেক রহমানের পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার হতে ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার হন তিনি। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের আবেদন এবং প্রক্রিয়াও সারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর আগে ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবির সমাধির পাশে সমাহিত জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। আর দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৯ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মারা গেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমান। এরপর জিয়া উদ্যানে প্রয়াত বাবার কবরের পাশে মাকে সমাহিত করেন তিনি।

এই সম্পর্কিত আরো