জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে তাদের পৈত্রিক বাড়ি। একই সাথে সিলেট নগরীতেও তার একটি বাসায় রয়েছে। মিষ্টভাষী শফিকুর রহমানের অমায়িক ব্যবহার, স্পষ্ট বক্তব্য, নেতৃত্বের দক্ষতা, সর্বোপরি সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করছেন ঢাকা-১৫ আসন (মিরপুরের একাংশ ও কাফরুল)।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসবে তার দলের তহবিল থেকে। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার প্রায় দেড় কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। শফিকুর রহমানের হাতে নগদ আছে প্রায় ৬০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামায়াতের আমির তার নির্বাচনী এলাকায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ করার সুযোগ পাবেন। জামায়াতের আমির অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য দুটি উৎসের উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে তিনি নিজের হাতে থাকা নগদ ও ব্যাংকে জমা থেকে খরচ করবেন ১০ লাখ টাকা। আর ৩৫ লাখ টাকা তাঁকে অনুদান দেবে তার দল জামায়াতে ইসলামী। এ আয়ের উৎস দলের সদস্যদের নিয়মিত অনুদান।
দাখিল করা হলফনামা থেকে জানা গেছে, শফিকুর রহমানের রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার; যার মূল্য দেখানো হয়েছে এক লাখ টাকা। জামায়াতের এ নেতা রাজনীতিবিদ হলেও পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কেবল চিকিৎসক। তার হাতে রয়েছে নগদ ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। পাশাপাশি ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপরে তার নিজের নামে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকা। বর্তমানে তার কাছে থাকা সম্পদের আনুমানিক মূল্য এক কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা।
ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি হলফনামায় আরও উল্লেখ করেন, তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি। তার নামে ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি আছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বর্তমানে তার কাছে ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকার সম্পদ আছে। কৃষিখাত থেকে তিনি বছরে তিন লাখ টাকা আয় করেন।
বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার। তার নিজের দুই লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য আছে। এছাড়া সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের যানবাহনসহ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ (যদি একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নাম, নম্বর এবং ব্যাংকের নাম পৃথক কাগজে উল্লেখ করুন) হিসাবে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা দেখিয়েছেন।
জামায়াতের শীর্ষ নেতা হলফনামায় উল্লেখ করেন, ‘আমি একক বা যৌথভাবে বা আমার পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তান বা আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করিনি।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
হলফনামা দেখা গেছে, জামায়াত আমির মোট ৩৪টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। দুটি মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত আছে। বাকি ৩২টি মামলার সবগুলো থেকে প্রত্যাহার ও খালাস পেয়েছেন। তিনি কখনই ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি বলেও উল্লেখ করেছেন।