দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, সহজতর ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সৃজনশীল প্রস্তাব ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো প্রচলিত প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মতো নয়; এটি একটি মৌলিক ও জাতি গঠনের মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে এবং নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা ‘রেড টেপ’ দুর করতে হবে। কোর্স ও কারিকুলামকে আরও সহজ, সময়োপযোগী ও উৎপাদনশীল করতে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ কাজ পর্যালোচনা করে উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এটি আপনার দেশ, আপনার সন্তান, আপনার ভবিষ্যৎ। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে, নতুন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে আসতে হবে।
তিনি জানান, ২০২৭ সালের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য চলতি মাসের মধ্যেই নতুন কারিকুলাম কমিটি গঠন ও সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শুরু করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস প্রস্তুত করতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, অন্যান্য দেশের উন্নত শিক্ষা মডেল, গবেষণা প্রবন্ধ এবং পিএইচডি গবেষকদের কাজ পর্যালোচনা করে কার্যকর ধারণা গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান ধাপে ধাপে জাতীয় শিক্ষানীতিতে সংযুক্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পরামর্শের মাধ্যমে একটি আধুনিক, গতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি শিক্ষা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান প্রস্তাব আহ্বান করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের দায়িত্ব, শিক্ষকসংক্রান্ত সমস্যা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিলতা- এসব বিষয়ে একটি সুসংগঠিত “সলিউশন লিস্ট” প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এতে করে কার্যকর আলোচনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।