রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান মাস শুরু

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে অধিকার অর্জনে আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাস। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘটনাপ্রবাহে মাসটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের এ মাসেই শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের সূত্রপাত হয়। ঘোষণা বাংলাদেশের স্বাধীনতা। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের মত আজ পহেলা মার্চ মাস শুরু হলেও এবারও এসেছে খানিকটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকল থেকে বেরিয়ে গতবার মার্চ এসেছিল মুক্ত স্বাধীন পরিবেশে। আর এবার পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাংলাদেশ স্বাধীনতার মাস উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে সভা সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনে মুখরিত থাকবে গোটা দেশ। অবশ্য রমজান উপলক্ষে এ বছর কর্মসূচি কিছুটা সীমিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ। সারা দেশই তখন অগ্নিগর্ভ। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এদিন বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের একটি প্রধান দল পিপলস পার্টি এবং অন্য কয়েকটি দল ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান না করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বেতারে এ ঘোষণা প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। হাজারো মানুষ পল্টন-গুলিস্তানে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়।

২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তারা হামলা চালায়। এখানেও হত্যা করা হয় অনেক ছাত্র-শিক্ষককে।

পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগির দর কষাকষি নিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যর্থতার এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান মধ্যরাতে চট্টগ্রামে তার অধিনস্থ অনেক সেনা অফিসার ও সৈনিককে নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পরে প্রথমে ২৬ শে মার্চ এবং শেষে ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান। তার স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে অনুপ্রাণিত করে, উজ্জীবিত করে।

২৬ মার্চ ঘোষণার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে এসে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

এই সম্পর্কিত আরো