দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন সংগঠনটির মূখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে হাসিব আল ইসলাম বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধ করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের পরিপন্থি এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, “যদি তারা সংসদে নির্বাচিত হয়, তাহলে আরও বড় দুর্নীতি ও ঋণ অনাদায়ের পথ খুলে যাবে। এর ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আইন যদি সাধারণ মানুষের জন্য এক হয়, আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর জন্য আরেক হয়, তাহলে হাজার হাজার শহীদের রক্তের মর্যাদা কোথায়?” তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সরকারি আমলাদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অতীতে প্রশাসন আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকে ছিল, এখন তারেক রহমান দেশে ফেরার পর আমলারা বিএনপির দিকে ঝুঁকে গেছে। আমলাদের এখনো সংস্কার করা যায়নি, এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেও নিতে হবে।”
হাসিব আল ইসলাম আরও বলেন, গত ১৫ বছরে গুম, খুন, গণহত্যা ও ভোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আমলাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি বলেন, “আমলারা যদি আবার কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের পক্ষে চক্রান্ত করে, কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনো সময় আছে। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রার্থিতা বাতিল করে আপনাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
এ সময় সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, “নব্য ফ্যাসিবাদী, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বৈধতা দিয়ে কমিশন গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করছে।”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। চলমান আর্থিক মামলার পরেও তাদের তালিকায় রাখা হচ্ছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্পষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পাসপোর্ট ও দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো তদন্ত ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, “যারা সংকটকালে দেশের পাশে ছিল না, অতিথি পাখির মতো সুযোগ বুঝে দেশে আসে, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।”
একইভাবে ঋণখেলাপিদেরও জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়ন বাতিল না হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।