রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

কমেছে হজের বিমান ভাড়া ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল

চলতি বছরের পবিত্র হজ উপলক্ষে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিজস্ব উড়োজাহাজে এবার হজযাত্রী পরিবহনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের নিজস্ব উড়োজাহাজ দিয়ে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। হজ কার্যক্রমে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ বছর মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিবহন করবে ৩৯ হাজার ২০০ হজযাত্রী। বাকি অর্ধেক হজযাত্রী পরিবহন করবে সাউদিয়া এয়ারলাইনস।

প্রি-হজ ফ্লাইট চলবে ২১ মে পর্যন্ত। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে, যা শেষ হবে ৩০ জুন। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান। মোট ১০৮টি ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহনের বিমান সূত্র জানায়, হজ ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধার্থে এ বছর ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, যা আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ায় উড়োজাহাজ স্বল্পতার কারণে কিছু আন্তর্জাতিক রুট রিসিডিউল করা হচ্ছে।

তবে এবার হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিমান লাভজনক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, ঢাকা-জেদ্দা রুটে হজযাত্রীর পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রীও পরিবহন করা হবে। মোট ফ্লাইটের মাত্র ৫ শতাংশ থাকবে ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট। ২০২৬ সালের জন্য হজযাত্রীপ্রতি বিমান ভাড়া কমানো হয়েছে ১২ হাজার ৯৯০ টাকা।

এ বছর মোট হজযাত্রী ৭৮ হাজার ৫০০ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন পাঁচ হাজার জন আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৫০০ জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হজ এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি সরকারের নির্দেশনা এবং হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। গত সপ্তাহে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি হজ এজেন্সি মালিক ও হজযাত্রী পরিবহনকারী তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এক সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রী একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। প্রত্যেক এজেন্সিকে মোট হজযাত্রীর কমপক্ষে ২০ শতাংশ প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে এবং প্রথম ও শেষ পর্যায়ে ৩০-৫০ শতাংশ হজযাত্রী পাঠাতে হবে। প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম কিংবা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না।

এ বছর সরকারি মাধ্যমে হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ ও হজ প্যাকেজ-৩ শিরোনামে তিনটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে।

হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ)

এ প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের সর্বোচ্চ ৭০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ পাঁচজনের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-২-এ। খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।

হজ প্যাকেজ-২

এ প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-২-এ। খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা।

হজ প্যাকেজ-১ ও ২-এ নির্ধারিত অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে মক্কা ও মদিনায় দুই ও তিন সিটের রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরব অবস্থানকাল হবে সাধারণত ৩৫ থেকে ৪৭ দিন। তবে শর্ট প্যাকেজে সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ২২ থেকে ৩০ দিন।

হজ প্যাকেজ-৩

সাশ্রয়ী এ প্যাকেজের হজযাত্রীদের আবাসন হবে মক্কায় আজিজিয়া এলাকায় এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে। এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-৫-এ। হারাম শরিফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যাতায়াতের জন্য এসি বাসের বন্দোবস্ত থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা।

এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। এর মধ্যে খাওয়া ও কোরবানিসহ বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে সাত লাখ টাকা। সাধারণ প্যাকেজে হজ পালনে ব্যয় হবে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা এবং সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা।

হজ ফ্লাইট নিয়ে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বুশরা ইসলাম আমার দেশকে বলেন, বিমান চায় কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই নির্বিঘ্নে হজযাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করতে। হাজিরা আল্লাহর মেহমান, তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

এই সম্পর্কিত আরো