সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বিটিসিএল-এর মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে বুধবার মামলাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (USET)-এর উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী তাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বুধবার আদালতে মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার আদেশের বিষয়ে জানতে পেরেছেন।
মামলায় মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (USET) কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট — www.uset.ac.bd এবং www.uset.edu.bd— পরিচালনা করেন। এডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কাউকে প্রদান না করা হয়, সে বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে এক পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ডোমেইন বিষয়ে আপত্তি এসেছে জানিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পত্র পাঠানো হয়। অভিযোগ শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। ৩০ নভেম্বর ২৩ হাজার টাকা পে-অর্ডারসহ কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হলেও তারা তা গ্রহণ না করে ফেরত দেন। অজুহাত দেন, ডিমান্ড নোট অনুসারে ২৭ নভেম্বর টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে।
এছাড়া মামলায় বলা হয়েছে, আসামিদের নিরপেক্ষতার ঘাটতি দেখে এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আঁচ করে, তাদের দুর্ব্যবহারমূলক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে এবং ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়।
এদিকে, বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর জয়ীতা সেন রিম্পীর রুমে প্রবেশ করে এ বিষয়ে কথা বলতে যান। তবে রিম্পী প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গালিগালাজ করে, কটু কথা বলেন এবং বিটিসিএলের বারান্দায় যেন কোনদিন না দেখে মর্মে হুমকি দেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি এবং প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীকে আবেদন গ্রহণ না করার জন্য নিষেধ করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করার হুমকি, ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ না করা এবং দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতা বিষয়ে তাজুল ইসলাম তার আইনজীবীর মাধ্যমে আসামিদের ১৮ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরপর আসামিরা ১১ জানুয়ারি বিকেল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, মর্মে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।