সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
বানিয়াচংয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল বিশ্বনাথে ব্যাংক চুরির চেষ্টা ব্যর্থ, অল্পটুকু অর্থ ও সামগ্রী নিয়ে চোররা পালালো হবিগঞ্জ-১ আসনে নাটকীয় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত, সরে যেতে পারেন শেখ সুজাত ওসমানীনগরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত অন্তত ১২ সুনামগঞ্জে প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারের গানের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন কুলাউড়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত সেলিম আহমদ জামালগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ঘিলাছড়া  দ্বিমুখী  উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ বছরপূর্তি উদযাপন জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্স অভিযানে ২০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ, ধ্বংস ৫০টি নৌকা—অধরা বালু ব্যবসায়ী জামালগঞ্জে দেড় কেজি গাজাঁসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
advertisement
জাতীয়

জামায়াত-চরমোনাইর আসন বণ্টন সমঝোতা এখনও হয়নি

কোন দল কতটি আসনে নির্বাচন করবে, তা ঠিক হয়নি জামায়াত এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের মতবিরোধে। এ পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের একক প্রার্থী ঘোষণার যে পরিকল্পনা ছিল, তা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

১১ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, একক প্রার্থী ঘোষণায় সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়নি। সেদিন সম্ভব না হলেও, পরবর্তী দুয়েক দিনের মধ্যে হবে।

আসন বণ্টন সম্পন্ন করতে না পারার কারণে কী সংবাদ সম্মেলন পিছিয়ে যাচ্ছে– এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। হামিদুর রহমান বলেছেন, সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষের পথে। সবারই দুয়েকটি করে আসনের বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে বলেই বিলম্ব হচ্ছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। এর অনেক আগেই আসন বণ্টন সম্পন্ন হবে।

জামায়াত সহ নির্বাচনী সমঝোতা করা দলগুলোর ঘোষণা ছিল, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই ৩০০ আসনে একক প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হবে। তবে কোন দল কত আসনে নির্বাচন করবে– এ নিয়ে দলগুলোর মতবিরোধে তা হয়নি।

১১ দল সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতা হলেও এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জামায়াতের আসন বণ্টনের সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। এনসিপির সঙ্গে ৩০ এবং বাংলাদেশ খেলাফতের সঙ্গে ১৩ আসন ছাড়ের আলোচনা অনেকটা চূড়ান্ত হলেও, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতবিরোধে চূড়ান্ত ঘোষণা আটকে রয়েছে। জামায়াত দলটিকে ৪০-৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। ইসলামী আন্দোলন ৭০ আসনের কমে রাজি নয়।

জামায়াতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ১০ দলের চূড়ান্ত তালিকা ঠিক হওয়ার পর অবশিষ্ট আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা থাকবেন। এই সংখ্যা ১৯০ হতে ২০০ হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ খেলাফতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, শরিকদের সঙ্গে জামায়াত বড় দলের মতো আচরণ করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি যেসব দলকে সম্মানজনক সংখ্যক আসন দিতে এবং আগামী সরকারের শরিক করার প্রস্তাব করেছিল, তাদেরও প্রত্যাশিত আসন ছাড়ছে না। এতেই সমঝোতা আটকে রয়েছে।

একই ভাষ্য, ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের। দলটির নেতাকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে জামায়াতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে বলছেন, ইসলামী আন্দোলনকে ৭০টির কম আসন ছাড়া অসম্মানজনক। জামায়াতের নেতাকর্মীরা বক্তব্যে বলছেন, ৩০টির বেশি আসন পাওয়া উচিত নয় ইসলামী আন্দোলনের। তাদের কারণে নিজেদের ভালো আসন ছাড়তে হচ্ছে।

গত বুধবার পর্যন্ত কয়েক দফায় জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের বৈঠক হলেও আসন বণ্টানের সুরাহা হয়নি। গত বৃহস্পতি এবং শুক্রবার সময় নির্ধারিত থাকলেও বৈঠক হয়নি। দুই দলের সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের পূর্বনির্ধারিত মাহফিল থাকায় বৈঠক হয়নি। যদিও ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনূস আহমদ সেখ বলেছেন, আসন সমঝোতার আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। শিগগির সমাধান হয়ে যাবে।

ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলাম পার্টি মিলে গত বছরের মে মাসে প্রথম নির্বাচনী মোর্চা গঠনের তৎপরতা শুরু করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনা। পরে জমিয়ত বিএনপির জোটে চলে যায়। গত আগস্টে এই তৎপরতায় যুক্ত হয় জামায়াত। পরের মাসে যোগ দেয় জাগপা এবং বিডিপি। এই আট দল মিলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে আন্দোলন করে। সেপ্টেম্বরে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ এবং এবি পার্টি আলোচনায় যোগ দিলেও, আন্দোলনে অংশ না নিয়ে আলাদা হয়ে যায়।

নভেম্বরে আট দল ঘোষণা দেয়, জোট নয়, নির্বাচনী সমঝোতা করবে। ২৪ ডিসেম্বর তাদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেয় এনসিপি, এবি পার্টি এবং এলডিপি। ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি এবং এলডিপি নিশ্চিত করে, তারাও থাকছে নির্বাচনী সমঝোতায়। ঘোষণা ছাড়াই যোগ দেয় এবি পার্টি।

১১ দল সূত্র জানিয়েছে, এনসিপিকে ৩০, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩, খেলাফত মজলিসের অপরাংশকে এবং এলডিপিকে ছয়টি করে, এবি পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনকে তিনটি করে, নেজামে ইসলামকে দুই, জাগপা ও বিডিপিকে একটি করে মোট ৬৫টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিল জামায়াত।

তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই সমঝোতায় ক্ষুব্ধ। দলটি কুড়িগ্রাম-২ আসন এনসিপিকে ছেড়ে দিতে যাচ্ছে। এ আসনটিতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে দাবি করে দলটির নেতাকর্মীরা বলেছেন, দেড় বছর ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়েছে আসনটিতে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে সমঝোতার জন্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে। বিএনপিকে হারাতে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী প্রয়োজন।

নির্বাচনী সমঝোতা হলেও রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনেই দলীয় প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু এনসিপির জন্য রংপুর-৪ এবং পঞ্চগড়-১ আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। রংপুর-৩ সহ উত্তরবঙ্গে দুটি আসন ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দিতে পারে দলটি। এতেও ক্ষুব্ধ জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, এসব আসনে হাতপাখার চেয়ে দাঁড়িপাল্লার অবস্থান শক্তিশালী।

জামায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল, জোট হলেও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতির আসন ছাড়া হবে না। কিন্তু খেলাফত মজলিসের জন্য মানিকগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি জামায়াত প্রার্থী শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান। এতেও ক্ষোভ জানিয়েছেন শিবিরের নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ খেলাফতের আমির মামুনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিনসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। তবে দলটির মহাসচিব জালালউদ্দিনের আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ খেলাফতের নেতারা।

এ ক্ষোভের বিষয়ে জামায়াতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, ‘জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতার আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত। সম্মান তো একপক্ষীয় হয় না।’

১১ দল সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও ১৮৩ আসনে সমঝোতা হয়েছিল জামায়াতের। এতে প্রথম দফায় ইসলামী আন্দোলনকে ৩১টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হয় জামায়াত। নিজের জন্য দলটি ১৫২ আসন রেখেছিল। অবশিষ্ট ৫২ আসন জরিপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বণ্টনে একমত হয়েছিল জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন। অবশিষ্ট ৬৫ আসন বাকি ৯ দলের মধ্যে বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

১১ দল সূত্র জানিয়েছে, ৩০ আসনে সমঝোতা হলেও ৪৪ আসনে প্রার্থী দেওয়া এনসিপি আরও চার-পাঁচটি আসন চাইছে। এবি পার্টি আরও অন্তত তিনটি আসন চায়। বাংলাদেশ খেলাফত আরও ১২টি আসন চায়। ইসলামী আন্দোলন আরও ৪০টি আসন চায়।

এনসিপি, এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া কয়েকটি আসনও ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে। ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জামায়াত ছাড়লেও, এই আসন চায় ইসলামী আন্দোলন। ময়মনসিংহ-১০ আসন এলডিপিকে ছেড়েছে জামায়াত। এটিও চায় ইসলামী আন্দোলন।

এই সম্পর্কিত আরো

বানিয়াচংয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

বিশ্বনাথে ব্যাংক চুরির চেষ্টা ব্যর্থ, অল্পটুকু অর্থ ও সামগ্রী নিয়ে চোররা পালালো

হবিগঞ্জ-১ আসনে নাটকীয় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত, সরে যেতে পারেন শেখ সুজাত

ওসমানীনগরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত অন্তত ১২

সুনামগঞ্জে প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারের গানের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

কুলাউড়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত সেলিম আহমদ

জামালগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

ঘিলাছড়া  দ্বিমুখী  উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ বছরপূর্তি উদযাপন

জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্স অভিযানে ২০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ, ধ্বংস ৫০টি নৌকা—অধরা বালু ব্যবসায়ী

জামালগঞ্জে দেড় কেজি গাজাঁসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার