পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৬১ জন ভিআইপি এমপি-মন্ত্রীরা। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ঈদ এলে নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে ঈদগাহে নামাজ আদায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎসহ গণভবনে থাকত মন্ত্রী-এমপিদের রাজসিক এক মিলনমেলা। তবে এবার দেখা যাবে এর ভিন্নরূপ।
ঈদের দিন কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ ঈদে কি কি খাবার দেওয়া হবে তা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অন্যবারের মতো এবার ঈদের দিনও সকালের নাশতায় আসামিদের জন্য থাকবে পায়েস বা সেমাইয়ের সঙ্গে মুড়ি।
দুপুরের খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে পোলাও, গরুর মাংস, একটি মুরগির রোস্ট, মিস্টি, ডিম, কোল্ড ড্রিংকস, পান এবং সুপারি। অন্য ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্য গরুর মাংসের পরিবর্তে খাসির মাংস পরিবেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রাতের খাবারে বন্দিদের জন্য সাদা ভাত, আলুর দম এবং রুই মাছ ভাজা থাকবে। দেশের সব কারাগারের সব বন্দীদের জন্য একই আয়োজন বলেও জানান তিনি।
এ কারা কর্মকর্তা আরো বলেন, 'প্রতিটি কারাগার নিজেদের সাধ্যমতো বন্দীদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। দর্শনার্থীদের গ্রহণের জন্য বিশেষ আয়োজন ও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।' এদিকে ঈদের দিন ও পরের দুদিন বাইরে থেকে স্বজনদের আনা খাবারও কারাগারে বসে খেতে পারবেন আসামিরা।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুইশর বেশি ‘ভিআইপি’ আসামি দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা, হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত নেতাকর্মীসহ ১৬১ জন কারাগারে ডিভিশন (প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে উন্নত সুযোগ-সুবিধা) পেয়েছেন।
তবে এসব আসামির মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে- এমন ৬০ জনের মতো আসামিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা সবাই ঈদের দিন একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন।
এসময় নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করারও সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন ও পরের দুদিন আসামিরা পরিবারের সদস্য ও স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মোবাইল ফোনে কথা বলারও সুযোগ পাবেন। তবে ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে ‘ভিআইপি’ বন্দিদের আগেই নম্বর জমা দিতে হবে। ঈদের দিন সব বন্দির জন্য বিশেষ খাবারেরও আয়োজন করা হয়েছে।