ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় উচ্চশিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ছে। এর অন্যতম কারণ শিক্ষক নিয়োগ যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, অতীতে সেভাবে হয়নি। আমি শুনেছি ও পত্রপত্রিকায় পড়েছি, নিয়োগে রাজনীতি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।
তিনি বলেন, মেধা ও ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্স নির্ভর করে গবেষণা, প্রকাশনা ও উদ্ভাবনের ওপর। এই চর্চাগুলো জোরদার করতে হবে।’
এর আগে একই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকাশনা, উদ্ভাবন ও অ্যাকাডেমিক প্রভাব—এই সূচকগুলো বেশি গুরুত্ব পায়, যেখানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সন্তোষজনক নয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর অ্যালামনাই তার মেরুদণ্ড।’
দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার জন্য শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।