হাজার হাজার মানুষের দোয়া ও ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির কিংবদন্তি পুরুষ, মানবতার ফেরিওয়ালা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও শিক্ষার আন্দোলনের পথিকৃৎ অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) পদকপ্রাপ্ত কবি দবিরুল ইসলাম চৌধুরী ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারী) পূর্ব লণ্ডনের ব্রিকলেন মসজিদে জানাযার নামাজ শেষে নিউহ্যামের ফরেস্টগেইটের উডগ্রেইন্জ সিমেট্রিতে তাঁকে দাফন করা হয় । নামাজে জানাযায় বৃটেনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব মাতানো কোভিড হিরো ব্রিটিশ বাংলাদেশীর এই বাতি ঘরকে বিদায় জানাতে আসেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। করোনা মহামারির সময় বিশ্ব মিডিয়ার নজরে এসেছিলেন শতবর্ষী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। চির বিদায় নিলেন মানবিকতার অন্যান্য শতবর্ষী কবি দবিরুল ইসলাম চৌধুরী।ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বইছে শোকের ছায়া।
শতবর্ষ পেরিয়ে যিনি ছিলেন শক্তি আর অনুপ্রেরণা।তার বিধায়ে তৈরি হলো অপূরণীয় শূন্যতা।নিজে কে নয় মানুষকে ভালোবেসে গেছেন আজীবন। শতবর্ষী দবিরুল ইসলাম চৌধুরী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ১টা ২০মিনিটের সময় রয়েল লন্ডন হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ১০৬ বছর।
করোনা মহামারির সময় লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি দবিরুল ইসলাম চৌধুরীকে (দবির চাচা) নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় হয়েছিল। ১০২ বছর বয়সী দবির চাচা রমজান মাসে রোজা রেখে লকডাউনের সময় পায়ে হেঁটে করোনাভাইরাস সংকটে দুর্গতদের জন্য তহবিল সংগ্রহে নেমে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ পাউন্ড উত্তোলন করেন।এরপর তিনি ব্রিটেনের রানীর কাছ থেকে ওবিই সম্মানে ভূষিত হন।
দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ আসামে, বর্তমানে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামে। ১৯৫৭ সালে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা অর্জনে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তী সময়ে দবিরুল ইসলাম চৌধুরী কমিউনিটি নেতা হিসেবে পরিচিতি হয়ে ওঠেন এবং লন্ডনে উপকণ্ঠ সেন্ট অ্যালবান্সে বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের সময়সহ নানা সামাজিক উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহে তিনি ভূমিকা রাখেন।
দবিরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন একজন কবি। নিজের লেখা হাজারের বেশি কবিতা প্রকাশ করেছেন। নিয়মিত বই পড়ার চক্র ও কবিসংগঠনের।