রাত তখন গভীর হতে শুরু করেছে। চারপাশে নেমে এসেছে নীরবতা। ঠিক সেই সময় অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি অধ্যাষিত এলাকা সিডনির ওয়াইলি পার্কের একটি বাড়ি থেকে হঠাৎই আকাশছোঁয়া আগুন আর কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকল, পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও আর ফিরিয়ে আনা যায়নি তিনটি জীবন। পুড়ে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তিনজনের মরদেহ।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত প্রায় পৌনে দশটার দিকে কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন বাড়িটির পেছনের আবাসিক অংশ আগুনে সম্পূর্ণ গ্রাস হয়ে যায়। আগুন নেভানোর পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল ঘোষণা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং করোনারের জন্য একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।
পুলিশ এখনো নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও নিহতরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন ৫২ বছর বয়সী পুরুষ, একজন ৪৩ বছর বয়সী নারী এবং একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। তারা পুড়ে যাওয়া বাড়ির পেছনের একটি গ্র্যানি ফ্ল্যাটে একসঙ্গে বসবাস করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন,প্রথমে তারা বিকট শব্দ ও পোড়া গন্ধ টের পান। এরপর বাইরে বেরিয়ে দেখেন আগুন দ্রুত পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশী ভেতরে থাকা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তীব্র আগুনের কারণে কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একজন প্রতিবেশী সামনের অংশে থাকা এক বৃদ্ধাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগার সময় ভবনের পেছনের অংশে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুরো কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ, অগ্নি-তদন্ত বিশেষজ্ঞ ও ফরেনসিক কর্মকর্তারা যৌথভাবে কাজ করছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের উৎস বা এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল কি না তা বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে শীত মৌসুমে ঘর গরম রাখার বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহারের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায় উল্লেখ করে দমকল কর্তৃপক্ষ সবাইকে কার্যকর ধোঁয়া-সতর্কীকরণ যন্ত্র ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক ও গ্যাসচালিত সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় কমিউনিটি সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যাক্তিরা বলেন,এক রাতের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই ছাই করে দেয়নি, নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো ওয়াইলি পার্ক ও লাকেম্বা এলাকাকে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অগ্নিকাণ্ডের উৎস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও,তিনটি প্রাণ হারানোর এই ঘটনা সিডনির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত করছেন তারা।