তাইওয়ানকে ঘিরে হঠাৎ যেন রণপ্রস্তুতি চীনের। দেশটির উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূল ঘিরে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে বেইজিং। বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা প্রদর্শন হিসেবে এ মহড়া চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। স্থল, জল ও আকাশপথ সবদিক দিয়েই ব্যাপক এই সামরিক মহড়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে এপি নিউজ।
এদিকে চীনের মহড়ার জবাব দিতে পাল্টা যুদ্ধজাহাজ পাঠায় তাইওয়ানও। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনের শানডং এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার গ্রুপ সোমবার তাদের নজরদারি এলাকায় প্রবেশ করে। তাইওয়ানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সামরিক বিমান ও জাহাজ মোতায়েন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া নতুন নয়। গেল বছরও এ ধরনের মহড়া চালিয়েছিল তারা। তবে তখন এমন আনুষ্ঠানিক নাম দিয়ে মহড়া করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এশিয়া সফরের আগে এ মহড়া করেছে চীন। মহড়া পরিচালনা করছে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড।
সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে চীন যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি, বিমানবাহিনী ও স্থলবাহিনীর সমন্বয়ে মহড়া করে। এ মহড়ায় তাইওয়ানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলার বিষয়টি যুক্ত ছিল। এছাড়া ভূমি ও সাগর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার বিষয়টি যুক্ত করে বেইজিং।
এদিকে, তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে চীনের সামরিক মহড়া ওই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ‘ঝুঁকির’ মধ্যে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাইওয়ানের পাশে জলপথে এবং আকাশপথে চীনের সামরিক মহড়া শুরুর দ্বিতীয় দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল।