বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের হুমকি-ধমকি, কাতার-ওমানকে নিয়ে ইরানের পাশে সৌদি আরব

ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত রাখতে কাতার ও ওমানকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব।

সৌদি আরব আশঙ্কা করছে, যেকোনো ধরনের সংঘাত বৃদ্ধি তাদের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করবে। তবে তাদের বড় আশঙ্কার জায়গা হলো—এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যদি এই হামলায় নিহত হন।

ইরানের ওপর হামলা হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও উদ্বিগ্ন আরব রাষ্ট্রগুলো।

উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবেশপথে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি ইরানকে তার প্রতিবেশী আরব দেশগুলো থেকে আলাদা করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হয়ে থাকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্র তার উপসাগরীয় মিত্রদের সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই সতর্কবার্তা উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজধানীতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তারা এই সংঘাতের আঞ্চলিক পরিণতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা এবং নিজেদের ভূখণ্ডে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত।

সৌদি আরব, কাতার ও ওমান হোয়াইট হাউসকে বলেছে, ইরানের সরকার উৎখাতের যেকোনো চেষ্টা তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করবে এবং শেষপর্যন্ত তা মার্কিন অর্থনীতিরই ক্ষতি করবে।

সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, রিয়াদ ইতিমধ্যে তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের অংশ হবে না।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আকাশসীমা ব্যবহার করে হামলা চালানোর অনুমতি দেবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে রিয়াদ।

উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে তেহরানে 'সরকার পরিবর্তনের' কোনো প্রচেষ্টা না চালানোর জন্যও সতর্ক করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এই সম্পর্কিত আরো