সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
মালয়েশিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল কালীঘাটে চোরাই পণ্যের ‘সাম্রাজ্য’: নেপথ্যে মাসুম-শরীফ সিন্ডিকেট বাদী জানেন না আসামী কে - জুলাই আন্দোলন: আহতদের গেজেট তালিকাভুক্তি মামলায় রহস্য! চুনারুঘাটে আকল মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল কুলাউড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন অধ্যাপক শাহজালাল সাদ্দাম-গাদ্দাফির পর মার্কিন আগ্রাসনের শিকার খামেনি আমিরাতে ইরানি হামলায় বাংলাদেশি নিহত কলেজছাত্রী ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: যুবকের যাবজ্জীবন এশিয়ার নারী ফুটবল আসর শুরু: জয়ে শুভ সূচনা স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত সময়েও শেষ হয়নি হাওরের বাঁধের কাজ, বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
advertisement
অপরাধ

কালীঘাটে চোরাই পণ্যের ‘সাম্রাজ্য’: নেপথ্যে মাসুম-শরীফ সিন্ডিকেট

সিলেটের পাইকারি ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র কালীঘাট এখন ভারতীয় চোরাই পণ্যের নিরাপদ স্বর্গে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা চিনি, পেঁয়াজ, জিরা, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যে সয়লাব হয়ে উঠছে স্থানীয় বাজার। অভিযোগ উঠেছে, ছড়ারপাড় এলাকার ইকবাল হোসেন মাসুম ও শরীফ আহমদের নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়েছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা।


অনুসন্ধানে জানা যায়, কালীঘাটে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি টাকার চোরাই পণ্য কেনাবেচা হয়। ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা চিনি, পেঁয়াজ, জিরা, ফুসকা, মেহেদি, তেল ও চকলেট দখল করে নিচ্ছে সিলেটের বাজার। দেশি ও বৈধভাবে আমদানিকৃত পণ্যের তুলনায় ভারতের এসব পণ্যের দাম কম হওয়ায় চোরাকারবারিরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সহজেই বাজারজাত করছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, চোরাই পণ্যের দাপটে বৈধ ব্যবসার টিকে থাকাই এখন দায় হয়ে পড়েছে।


স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, কালীঘাটের এই চোরাই সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন ছড়ারপাড় এলাকার ইকবাল হোসেন মাসুম এবং দুন্দা মিয়ার ছেলে শরীফ আহমদ। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য দিন-রাত ভারতীয় পণ্য বাজারে ঢোকানোর কাজ তদারকি করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি হাইড্রোলিক গাড়ি থেকে বস্তাপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে এই সিন্ডিকেট। একটি গাড়িতে সাধারণত ১৮০ থেকে ২০০ বস্তা পণ্য থাকে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা সিন্ডিকেটের বাইরে ব্যবসা করতে চাইলে তাদের পণ্য জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সিন্ডিকেট সদস্য শরীফ আহমদের বিরুদ্ধে একসময় বিতর্কিত ভারতীয় ‘শিলং তীর বোর্ড’ পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। যদিও বর্তমানে তিনি সেই কারবার ছেড়ে চোরাচালান ও ঠিকাদারির আড়ালে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সাথে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা এবং কতিপয় নামধারী সাংবাদিকের যোগসাজশ রয়েছে, যার ফলে তারা নির্বিঘ্নে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।


এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শরীফ আহমদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি বর্তমানে ঠিকাদারি কাজ করি। নির্বাচনের আগে আমি তীর শিলং বোর্ড চালাতাম, কিন্তু এখন আর এসবের সঙ্গে নেই। ইকবাল হোসেন মাসুমকে চেনার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, হ্যাঁ, মাসুমকে আমি চিনি, সে আমার লোক। তবে চোরাচালানের সঙ্গে মাসুমের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, কালীঘাটে অবৈধ পণ্য বা সিন্ডিকেটের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সীমান্ত রক্ষা ও রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে কালীঘাটে এমন প্রকাশ্য অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামণা করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

এই সম্পর্কিত আরো

মালয়েশিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কালীঘাটে চোরাই পণ্যের ‘সাম্রাজ্য’: নেপথ্যে মাসুম-শরীফ সিন্ডিকেট

বাদী জানেন না আসামী কে জুলাই আন্দোলন: আহতদের গেজেট তালিকাভুক্তি মামলায় রহস্য!

চুনারুঘাটে আকল মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

কুলাউড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন অধ্যাপক শাহজালাল

সাদ্দাম-গাদ্দাফির পর মার্কিন আগ্রাসনের শিকার খামেনি

আমিরাতে ইরানি হামলায় বাংলাদেশি নিহত

কলেজছাত্রী ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: যুবকের যাবজ্জীবন

এশিয়ার নারী ফুটবল আসর শুরু: জয়ে শুভ সূচনা স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার

নির্ধারিত সময়েও শেষ হয়নি হাওরের বাঁধের কাজ, বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক