পেশায় তিনি একজন সাধারণ লেগুনা চালক। কিন্তু তার দাপটে এখন তটস্থ পুরো গ্রাম। শুধু গ্রামবাসীই নয়, তার চরম নৃশংসতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার থেকে রেহাই পাননি আপন ফুফাতো ভাই এমনকি বৃদ্ধ চাচাও। একের পর এক পরিবার তছনছ করা, চাঁদাবাজি এবং নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করাই যেন তার নেশা। এই 'পারিবারিক ও সামাজিক ত্রাস' সৃষ্টি করা ব্যক্তির নাম লোকমান হোসেন (৩৫)।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লামাফতেপুর (৪র্থ খণ্ড) গ্রামের এই লেগুনা চালকের বিরুদ্ধে অতি সম্প্রতি সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার আপন ফুফাতো ভাই বশির উদ্দিন (৫৫)।
বশির উদ্দিনের সাজানো সংসারটি বিষিয়ে তোলার নেপথ্যে কারিগর এই লোকমান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বশির উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী হুছনা বেগম ঘর থেকে নগদ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে, বশির তার ফুফাতো ভাই লোকমানের সাহায্য চান। কিন্তু লোকমান সহায়তার বদলে উল্টো রহস্যজনক আচরণ শুরু করেন। তিনি বশির উদ্দিনকে টাকার কথা বলতে বারণ করেন এবং ৭ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে মায়ের হাতে তুলে দিতে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করেন। পরে জানা যায়, লোকমান ওই গৃহবধূর সাথে গোপন আঁতাত করে সেই লুন্ঠিত টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং বশিরের পরিবার তছনছ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
লোকমানের নৃশংসতার তালিকা বেশ দীর্ঘ। তিনি কেবল ফুফাতো ভাইয়ের ঘরই ভাঙেননি, নিজের আপন চাচা আব্দুল মনাফকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করেছেন। সহায়-সম্বলহীন সেই বৃদ্ধ চাচা এখন নিজ গ্রাম ছেড়ে সিলেট শহরে অসহায় অবস্থায় যাযাবরের মতো জীবন কাটাচ্ছেন। আত্মীয়তার বন্ধন ছিঁড়ে আপনজনদের ওপর এমন পৈশাচিক আচরণে এলাকার মানুষ স্তব্ধ।
সম্প্রতি গ্রামের সমাজসেবী ও সাংবাদিক মো. ইসলাম আলীর পারিবারিক কবরস্থান উচ্ছেদ ও টিলা কাটার ঘটনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে লোকমান সেখানে উশৃঙ্খল আচরণ করেন। সম্প্রতি লোকমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের দায়েরকৃত অভিযোগে সাক্ষী হওয়ায় ফুফাতো ভাই বশির উদ্দিনের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন লোকমান। ৩১ মে রাতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বশির উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাজারে তন্নতন্ন করে খোঁজে লোকমান বাহিনী। বশির উদ্দিন বর্তমানে প্রাণের ভয়ে নিজের বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
পেশাগত পরিচয় লেগুনা চালক হলেও এলাকায় তিনি নিজেকে একচ্ছত্র অধিপতি মনে করেন। গ্রামের প্রতিটি অসহায় ও নিরীহ পরিবারকে জিম্মি করে তিনি বাধ্যতামূলক ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। কেউ এই ‘জোরপূর্বক কর’ দিতে অস্বীকার করলে তাকে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার এই লাগামহীন চাঁদাবাজি ও ত্রাসের কারণে সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী বশির উদ্দিন বলেন, সে আমার আত্মীয় হয়েও আমার ঘর ভেঙেছে, টাকা খেয়েছে। সাংবাদিকের পক্ষে স্বাক্ষী হওয়ায় এখন আমাকে মেরে ফেলতে চায়। সে গ্রামের মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ আয়ের পথ বানিয়েছে।
এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং একজন সাধারণ লেগুনা চালকের এমন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার রহস্য উদ্ঘাটন করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সাধারণ এলাকাবাসী। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্তের আশ্বাস পাওয়া গেছে।