মোবাইল গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি ও মাদকের নেতিবাচক প্রভাব থেকে তরুণদের দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় তিন মাসব্যাপী ফুটবল বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ফুটবল দল ও ক্লাবের খেলোয়াড়দের মাঝে পর্যায়ক্রমে ফুটবল বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াচর্চা, সুস্থ বিনোদন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রামনগর ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে ফুটবল তুলে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও সমাজকর্মী মো. সবুজ খান।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খেলাধুলা শুধু শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হামজা চৌধুরীর উদাহরণ তুলে ধরে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
ফুটবল পেয়ে রামনগর ফুটবল একাদশের অধিনায়ক দিহান আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, নতুন ফুটবল পাওয়ায় দলের খেলোয়াড়দের অনুশীলনের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে পশ্চিম মালসাদহ (৫ নম্বর ওয়ার্ড) ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের মাঝেও একটি ফুটবল বিতরণ করা হয়। ক্লাবের অধিনায়ক রাব্বি বলেন, এ উপহার তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং খেলাধুলার প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহ জোগাবে।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ হোসেন শিহাব। তিনি বলেন, মাদক ও অনলাইন গেমিংয়ের বিরুদ্ধে খেলাধুলাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। মাঠমুখী তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠলে সমাজ আরও সুস্থ ও ইতিবাচক হবে। তিনি জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের সাফল্যের উদাহরণ টেনে খেলাধুলাকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা পারভেজ সাজ্জাদ, সহসভাপতি আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল বাসার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য জায়েদ কবির, ইয়াসিন হাবিব ও ওয়াহিদুজ্জামান স্বপ্নীল উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার সভাপতি রাজু আহমেদ বনি। তিনি বলেন, তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করা। নিয়মিত অনুশীলন ও পরিকল্পনার মাধ্যমে খেলাধুলাও ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উৎসাহের অভাবে অনেক প্রতিভাবান কিশোর-তরুণ মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগ তাদের আবারও মাঠমুখী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।