ডিসির নির্দেশ সত্বেও থামছেনা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ইজারাবিহীন নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানের পরও রাতদিন সমানতালে চলছে সনাতন পদ্ধতিতে বেপরোয়া বালু উত্তোলন। আর রাতের আঁধারে এসব পাচার হচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোর রাতে বালুভর্তি একটি মিনি ট্রাকসহ (ঢাকা মেট্রো ন- ২৩-০৩৩৩১) দুজনকে আটক করেছে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে আল আমিন (২৬) ও একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে জসিম মিয়া (২৮)।
পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, শনিবার (৩০ আগস্ট) ভোররাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর আদর্শ দাখিল মাদরাসার সম্মুখস্থ পাকা রাস্তার উপর চেকপোস্ট বসিয়ে সিলিকা বালুভর্তি ট্রাকসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। দোয়ারাবাজার থানার ওসি জাহিদুল হকের মৌখিক দিক নির্দেশনায় সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (তদন্ত) শামছ উদ্দিন খান ও এসআই মিজানুর রহমান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নস্থিত নরসিংপুর বাজারসংলগ্ন ইজরাবিহীন মরাচেলা নদী হতে স্থানীয় সুনাইত্যা গ্রামের আব্দুল আলীর পুত্র মামুন মিয়া (২৮), একই গ্রামের আরশ আলীর পুত্র জসিম উদ্দিন এবং দ্বীনেরটুক গ্রামের সাদ্দাম মিয়া (৩০) পিতা- অজ্ঞাত এর সহায়তায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলো তারা।
উল্লেখ্য, ইজারানীতি বহির্ভূত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার দোয়ারাবাজারে পরিদর্শনে আসেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এসময় নদী ও বালু মহাল পরিদর্শনকালে তিনি খাসিয়ামারাসহ উপজেলার বিভিন্ন নদী হতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি নৌকা বা বাল্কহেড বোঝাই বালু পরিবহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইজারাদারদের সতর্ক করেন। অন্যথায় ক্ষতিপূরণ আদায়সহ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিবেচনা করে সনাতন পদ্ধতিতে নদী হতে বেলচা দিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা নেই বলে তিনি জানান।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, জব্দকৃত বালুসহ ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন/২০১০ এর বিধিমতে মামলা রুজু হয়েছে।