শেষ সময়ে এসে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিল ও সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। কাউন্সিলকে ঘিরে দলীয় কোন্দলের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৬ আগস্ট এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কাউন্সিলের আগেই সভাপতি পদে জি কে গউছকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
কাউন্সিলকে ঘিরে গউছ ও তার বিরোধী বলয়ের মধ্যে কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ফলে শেষ সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কাউন্সিল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি. কে. গউছকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা বিএনপির সভাপতি ঘোষণা করা হয়।
তবে সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার শিফা ও শেখ সুজাত মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ অভিযোগ তোলে-১,১১৩ জন কাউন্সিলরের তালিকায় আওয়ামী লীগ ও তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম ঢোকানো হয়েছে। এ অভিযোগে তারা কাউন্সিল বর্জনের ঘোষণা দেন।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে বসে ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
১৬ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে রাজনীতি করেছেন-এমন কারও নাম থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে।
পাশাপাশি যেসব নেতা কোন্দলের কারণে মনোনয়নপত্র জমা দেননি, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দিতে ৬ আগস্টের কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং করায় অ্যাডভোকেট গুলজার খানকে নির্বাচন কমিশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগের টিম লিডার অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি. কে. গউছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন ও মিফতাহ সিদ্দিকী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ-স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাম্মী আক্তার, সদস্য শেখ সুজাতসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, সম্মেলনের পক্ষে-বিপক্ষে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের পাশ কাটিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জি কে গউছ এই সম্মেলনের আয়োজন করছেন। তিনি নিজে সভাপতি প্রার্থী হয়ে পছন্দের লোকজন নিয়ে উপজেলা কমিটি গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন, যা নিয়মনীতিতে পড়ে না। অন্যদিকে জি কে গউছের পক্ষের নেতা-কর্মীদের দাবি, তাঁদের প্রতিপক্ষ সম্মেলনে সরাসরি ভোটে পরাজয়ের ভয়ে এ সম্মেলনের বিরোধিতা করছেন।