নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শেরপুর রোডের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উক্ত সুব্রত দেব নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে (২০১৪-২০১৯) স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং তৎকালীন ইউ.এন.ও.দের ‘ম্যানেজ’ করে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে শতকরা ১% থেকে ৫% পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় করতেন। তার অনুমতি ছাড়া কোনো ফাইল ইউএনও কর্তৃক স্বাক্ষর হতো না বলে অভিযোগকারীর দাবি।
শেরপুর রোডের বাসিন্দা চুনু মিয়ার ছেলে উক্ত জহিরুল ইসলামের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে সুব্রত দেবের ভূমিকা ছিল বেশ সক্রিয় । তিনি রাতের আধারে ভোট সেন্টারে ভোট কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করা এবং প্রশাসনে সুব্রতের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি পূর্বে বদলি হওয়ার পরও তিনি পুনরায় নবীগঞ্জে ফিরে আসেন।
সম্প্রতি স্থানীয় পত্রপত্রিকায় তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম নিয়ে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তেমন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে সম্পৃক্ত থেকে তার আগের প্রভাব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করা হয়। এছাড়াও বিগত সরকারের আমলের লোকজন এখনো তার মাধ্যমে হাট-বাজারসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দুই কর্মী এখনো প্রতিনিয়ত তার অফিসে সার্বক্ষণিক বিচরণ করা নিয়েও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর নেতৃবৃন্দ মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে জহিরুল ইসলাম এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং জনসাধারণের আস্থা অটুট থাকে। এ ব্যাপারে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেব তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন।