শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

বানিয়াচংয়ের লক্ষীবাওর জলাবনে পর্য়টকের উপচেপড়া ভিড়

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে বানিয়াচংয়ের লক্ষীবাওরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু পর্য়টকেরা।

পর্য়টকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সাড়ে তিন কিলোমিটার বিশাল আয়তনের এই জলাবন। আয়তনে এটি সিলেটের রাতারগুলের চেয়েও বড়। বর্ষাকালে থৈ থৈ করা পানি থাকলেও শরৎকালে একদম শুকিয়েযায়। বনের ভিতরে কয়েকটি খাল ও বিল রয়েছে। এগুলোর স্বচ্ছ পানিতে বনের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। 

মোটর সাইকেল,প্রাইভেট কার,সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত টমটম নিয়ে আসছেন পর্য়টকেরা।
ঈদের দ্বিতীয় দিন ঘুরে দেখা গেছে, পুরো জলাবন জুড়ে ভ্রমণপিপাসু পর্য়টকদের ঢল নেমেছে। কোথাও যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে মুক্ত মনে বনের দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু পর্য়টকেরা।

ঢাকা থেকে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে আসা পর্য়টক খায়রুল আলম বলেন, ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবারের সঙ্গে হবিগঞ্জের বানিয়াচং লক্ষীবাওর ঘুরতে এসেছি। এখানের মন জোড়ানো দৃষ্টিনন্দন বনের প্রকৃতিক সৌন্দর্য়্য দেখে খুবই ভালো লেগেছে। তবে পর্য়টকদের জন্য পাবলিক টয়লেটসহ বসার জায়গাও খাবারের ব্যবস্থা থাকলে আরো সুবিধা হতো।

ভ্রমণকারী পর্য়টক বলাকীপুর প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম এ ওয়াহিদ অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃতি বান্ধব পর্য়টন ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সড়ক উন্নয়নে যত্নবান হতে হবে। উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস থেকে বিরত থাকতে হবে। বন,পাহাড় আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে বেড়াতে ভীষণ ভালো লাগে। তাই ছুটি পেলেই ছুটে যাই বন,পাহাড়ে। বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের যত্নশীল হবার দাবি জানাচ্ছি।

মুরাদপুর হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিপন কুমার দাষ বলেন, প্রাকৃতিক এই জলাবনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাও সোন্দর্য়্য রক্ষার দায়িত্ব ভ্রমনকারী সকলের।

এদিকে ঈদের লম্বা ছুটিতে লক্ষীবাওরে পর্য়টকদের বাড়তি চাপ সামলাতে ও জলাবনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ছান্দ সর্দার নজরুল ইসলাম খাঁনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে বন জুড়ে।

বানিয়াচংয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্য়টক হয়রানি বন্ধে আবাসিক হোটেল, , পরিবহন এবং রেস্টুরেন্ট মালিক-শ্রমিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

অপার পর্য়টন সম্ভাবনাময় বানিয়াচংয়ে রয়েছে চোখ জুড়ানো সব সৌন্দর্য়্য।রাজবাড়ীর ধ্বংশাবশেষ,সাগর দিঘী (কমলা রানীর দিঘী), রাজা গোবিন্দ সিংহ এর সমাধি, হব্যা-ঘোমা দারাগুটি, শ্যাম বাউল গোশ্বামীর আখড়া, বিথঙ্গল আখড়া,বাই সাইকেলে বিশ্ব ভ্রমনকারী ভূ পর্য়টক রামনাধ বিশ্বাষের বাড়ীও মোঘল আমলের মসজিদ-মন্দির সহ বহু প্রত্নতাত্বিক দৃষ্টিনন্দন অসংখ্য স্পট রয়েছে।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে বানিয়াচংয়ে প্রচুর পর্য়টকের আগমন ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বানিয়াচংয়ে আগত পর্য়টকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বানিয়াচং থানা পুলিশ নিরলস কাজ  করে যাচ্ছে। দর্শনীয় স্থানগুলোতে টহলের পাশাপাশি পর্য়টকদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্ত দিয়েও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরো