শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল পাশ, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন সরকারি কাজে সহায়তা করাই কাল হয়ে দাঁড়ালো ফয়েজের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার ফজল হত্যা: হারুন ও নুরইয়ের খোঁজ নেই, আতঙ্কে এলাকাবাসী শাহ আরেফিন টিলায় ৯৬ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ সংসদে ডা. জীবনের প্রথম বক্তব্য - বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের উন্নয়ন ও ৯ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি দু'দিনের ব্যবধানে হামে আক্রান্ত আরেক শিশুর মৃত্যু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বীভৎস রূপ জাতির সামনে পরিষ্কার: জামায়াত আমির নিউজিল্যান্ড টিমের সফর উপলক্ষ্যে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা - পহেলা বৈশাখে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
advertisement
সিলেট বিভাগ

সরকারি কাজে সহায়তা করাই কাল হয়ে দাঁড়ালো ফয়েজের

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হিলালপুর গ্রামের মনফর আলী কুটলায়ের পুত্র ফয়েজ আহমদ (৩৩)। পেশায় তিনি স্যানিটারি মিস্ত্রি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠন যুবদলের একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জেলে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়েজ আহমদের মা নেই। বাবা, ৫ ভাই, ৪ বোন ও ভাইদের সন্তানাদি নিয়ে ১১ সদস্যের পরিবার। পরিবারে উপার্জনক্ষম দুই ব্যক্তি ফয়েজ আহমদ ও তার ভাই নুরুল ইসলাম কয়েছ—উভয়েই স্যানিটারি মিস্ত্রি। তারা একসঙ্গে কাজ করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

বিগত ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, রোজা মাসে স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হিলালপুর, রফিপুর ও আওরীবাড়ি এলাকায় ফসলি জমির টপসয়েল কাটার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আহমদের নেতৃত্বে একটি মাটি খেকো চক্র।

পরবর্তীতে ২৭ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ ফুয়াদের নেতৃত্বে অভিযানে যান। তখন ফয়েজ আহমদের এলাকায় গেলে উক্ত জায়গাটি কোথায় জানতে চাইলে তিনি ঘটনাস্থল দেখিয়ে দেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে মাটি কাটায় ব্যবহৃত এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। আর এই ঘটনাস্থল দেখিয়ে দেওয়া ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করাই কাল হয়ে দাঁড়ায় স্যানিটারি মিস্ত্রি ও যুবদলের কর্মী ফয়েজের। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আহমদ ও তার মাটি খেকো চক্র নাখোশ হয় ফয়েজের প্রতি এবং তাকে হেনস্তার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আঁটে। পরবর্তীতে তারা সফল হয় এবং মোগলাবাজার থানায় এক্সকাভেটর চালক আব্দুর রাজ্জাক একটি চাঁদাবাজি ও এক্সকাভেটর ভাঙচুরের মামলায় তাকে প্রধান আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ফয়েজ আহমদের বড় ভাই নুরুল ইসলাম কয়েছ বলেন, আমরা দুই ভাই স্যানিটারি কাজ করে সংসার চালাই। আমাদের এলাকায় সরকারিভাবে মাটি ফেলে কাজ করা হচ্ছিল এবং ফসলি জমির মাটি কাটছিল একটি পক্ষ। সরকারি অভিযান এলে আমার ছোট ভাইকে তারা ঘটনাস্থল চিনতে না পারায় জিজ্ঞাসা করলে সে ঘটনাস্থল দেখিয়ে দিয়েছে—এটাই তার অপরাধ। আমার ভাই তাদের প্রতিহিংসার শিকার। আমাদের বাবা বৃদ্ধ, আমি একা পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। এই মামলা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আমার ভাইকে হঠাৎ ভোর রাতে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।

মোগলাবাজার থানা ওসি মো. মনির হোসনে বলেন, চাঁদাবাজি ও এক্সকাভেটর ভাঙচুরের অভিযোগে ফয়েজ আহমদকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ কবে প্রদান করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা রেকর্ডের ৩/৪ দিন আগে।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দয়াময় দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রথমে তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলে জানান। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি এবং বলেন, এসএমপি মিডিয়া এ বিষয়ে বক্তব্য দেবে বলে ফোন কেটে দেন।

৩ নং ফুলবাড়ি ইউনিয়নের সেক্রেটারি আব্দুল আহাদ চৌধুরী জানান, সে এই এলাকার সন্তান। এসিল্যান্ডের অভিযানে জায়গাটি চিনিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছে, তাই তার প্রতিপক্ষ আক্রোশবশত ও প্রতিহিংসাবশত এই মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। সে যুবদলের কর্মী এবং বিগত নির্বাচনে তার প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে। আমরা অবিলম্বে ফয়েজ আহমদের মুক্তি চাই।

এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সে একজন স্যানিটারি মিস্ত্রি। সরকারি কাজে সহায়তা করেছে বলে তাকে এই মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ঢোকানো হয়েছে। তাছাড়া সে গোলাপগঞ্জ থানা এলাকায় বসবাস করে—সে মোগলাবাজার থানা এলাকায় কীভাবে চাঁদাবাজি করবে? আমরা তার অবিলম্বে মুক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার চাই।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ফয়েজ আহমদকে চেনেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, “আমি ব্যস্ত আছি, আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি।” এরপর তার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

 

এই সম্পর্কিত আরো

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল পাশ, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন

সরকারি কাজে সহায়তা করাই কাল হয়ে দাঁড়ালো ফয়েজের

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার

ফজল হত্যা: হারুন ও নুরইয়ের খোঁজ নেই, আতঙ্কে এলাকাবাসী

শাহ আরেফিন টিলায় ৯৬ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ

সংসদে ডা. জীবনের প্রথম বক্তব্য বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের উন্নয়ন ও ৯ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি

দু'দিনের ব্যবধানে হামে আক্রান্ত আরেক শিশুর মৃত্যু

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বীভৎস রূপ জাতির সামনে পরিষ্কার: জামায়াত আমির

নিউজিল্যান্ড টিমের সফর উপলক্ষ্যে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার

দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা পহেলা বৈশাখে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের