শ্রীমঙ্গল উপজেলার এক সময়ের তুখোড় রাজনীতিবিদ ও প্রবাসী সমাজসেবক যোশেফ দাশ গুপ্ত যশো আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় তাঁর ছবি সংবলিত বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ এর জানিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পেতে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আগ্রহের কথা জানান এবং সবার মতামত ও পরামর্শ কামনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এলাকার উন্নয়নে নানামুখী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা প্রদান, কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা এবং ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখার মাধ্যমে তিনি নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বার্তায় যশো বলেন, তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার সন্তান এবং জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানেই। দীর্ঘদিন প্রবাসে, বর্তমানে কানাডায় বসবাস করলেও জন্মভূমির প্রতি তার গভীর টান সবসময় অনুভূত হয়। এলাকার মানুষের সেবা করার লক্ষ্যে তিনি আগামী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেয়ে কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি। খুব শিগগিরই তিনি এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন বলেও জানিয়েছেন।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এক পৃথক বার্তায় তিনি বলেন, নতুন বছরের আলোয় সবার জীবন হোক সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিময়। অতীতের সকল গ্লানি ভুলে আমরা যেন ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে পারি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যোশেফ দাশ গুপ্ত যশো এক সময় শ্রীমঙ্গলের রাজনীতিতে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রবাসে অবস্থান করলেও এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি আবারও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশির গ্রামে জন্মগ্রহণ করা যশো ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর ইউরোপে পাড়ি জমান। সেখানে কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে তিনি ২০২১ সালে বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব ল্যুভেন থেকে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এবং ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ল’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ব্যাচেলর অব ল (এলএলবি) অধ্যয়নরত, যা ২০২৯ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মজীবনের শুরুতে কানাডার ম্যানিটোভা থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং একই সঙ্গে একাধিক দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করছেন।