সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে তাঁরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির প্রার্থনা করেন। এসময় বিএনপির এই তিন সংসদ সদস্য আদালতে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ।
আসামী পক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, মামলার রায়ের আগে ৩৪২ ধারায় আদালতে আসামি পরীক্ষা করা হয়। ধার্য্য তারিখে গতকাল মঙ্গলবার আরিফুল হক, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জিকে গউছ আদালতে হাজির হন। তারা আদালতে লিখিত ও মৌখিকভাবে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এসময় তারা প্রত্যেকে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
আদালত থেকে বের হয়ে সংসদে সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেন, এই মামলার কারণে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতেই দলটির নেতাদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারন করেছেন।
এরআগে বেলা ১২টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা আদালত চত্বরে এসে হাজির হন। এসময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। এই মামলার শুনানির জন্য আদালতের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। পরে শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন, মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেণেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় স্বাক্ষী রাখা হয় ১২৩ জনকে।