সিলেট মহানগরীর শিবগঞ্জে জেলা তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক মো. ইসলাম আলীর বাসায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মূলহোতা মো. রাজিব হোসেন ওরফে ‘মাছচোরা’ রাজীবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকা থেকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের এসআই মো. মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রাজিব (৩১) চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার আলী হোসেনের ছেলে। বর্তমানে সে সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানার যতরপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাংবাদিক ইসলাম আলীর বাসায় দস্যুতার মামলায় রাজিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার দিকে সেহেরির সময় সিলেট নগরীর শাহপরাণ থানাধীন আদিত্যপাড়ার ‘আলপনা-১৮’ নম্বর বাসায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. ইসলাম আলী সেহেরি খাওয়ার জন্য ডাইনিং রুমে অবস্থানকালে ২-৩ জন মুখোশধারী ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে। এসময় ডাকাতরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এবং চাকুর ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে ফেলে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ডাকাতদল বাসা থেকে ৩টি মোবাইল ফোন, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২৬ ভরি রুপা, নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভর্তি একটি ট্রাঙ্ক নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘মাছচোরা’ রাজিব ও তার সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় মো. ইসলাম আলী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন রাজিবের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, লুটপাট ও মাদক কারবার চালিয়ে আসছে। এই চক্রের সদস্যরা লুট করা মালামাল নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। রাজিব গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।