ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বিগত দিনে যারা সাধারণ মানুষের আহার কেড়ে নিয়েছিল এবং প্রকৃত জেলেদের নানাভাবে বঞ্চিত করেছিল, তাদের আর জলমহাল ইজারা নিতে দেওয়া হবে না। সমাজের প্রভাবশালী ও ভিন্ন পেশার বড় বড় বিত্তবানরা এতদিন জলমহাল দখল করে রেখেছিল। বর্তমান সরকার সেই প্রথার অবসান ঘটিয়ে যারা হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে, সেই প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতেই ইজারা তুলে দিতে চায়।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সরকারি জলমহাল আইন ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, আমরা হাওরাঞ্চলের মানুষের একদম কাছাকাছি এসে তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আইনের চূড়ান্ত রূপ দিতে চাই। আমরা একটি খসড়া প্রণয়ন করেছি, তবে এর বাইরেও আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ নিয়ে একটি সুন্দর ও কার্যকর নীতিমালা তৈরি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। প্রকৃত জেলেরা যাতে সরাসরি উপকৃত হন, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ভূমি সংস্কার আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাউদ্দিন নাগরী এবং সিলেট বিভাগের কমিশনার খান মোহাম্মদ রেজা উন নবী বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা জেলে ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা তাদের মতামত ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের ক্ষয়-ক্ষতির খোঁজখবর নিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।