বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে ১২ শতাধিক পানগাছ কর্তন: নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে আদিবাসী দম্পতির ১২ শতাধিক পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে জড়িতদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারসহ আদিবাসীদের পানজুম ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া পৌর শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন, খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (মৌলভীবাজার জেলা শাখা) এবং বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রার সভাপতিত্বে এবং আদিবাসী নেত্রী হিরামন তালাং ও মনিকা খংলার যৌথ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম শামীম, উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব করিম মিন্টু, আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ফ্লোরা বাবলী তালাং, রিপন বানাই, নারায়ণ কুর্মী, হিরণময় সিংহ, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, সাদমান সৌমিক মজুমদারসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, পানগাছ খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এই গাছ কেটে ফেলা মানে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কুলাউড়া শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—পানজুম ধ্বংসকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, আদিবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান এবং পান-সুপারিসহ ফসল চুরি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

আদিবাসী নেত্রী ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, কুলাউড়ায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২টি পুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায় বসবাস করে। তাদের প্রধান জীবিকা পান চাষ, যা সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক বনের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পুঞ্জিতে পানগাছ কাটা, ফসল চুরি, জমি দখল ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি অভ্যন্তরীণ বিরোধজনিত ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ গভীর রাতে ইছাছড়া পুঞ্জির অনন্ত ও সরিস লামারাই দম্পতির পানজুমে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা প্রায় ১২ শতাধিক পানগাছ কেটে ফেলে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই সম্পর্কিত আরো