বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

কুলাউড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড বাড়ি-ঘর

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল দশটার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার রাউৎগাঁও, ব্রাহ্মণবাজার, পৃথিমপাশা, কুলাউড়া সদর, টিলাগাঁও ও হাজীপুর ইউনিয়নের অনেক বাড়িঘর, গাছপালা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে প্রধান সড়কে গাছ পড়ে একটি অটোরিকশা এবং কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পীরের বাজার, নর্তন, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারসহ কয়েকটি গ্রামে ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেক জায়গায় টিনের চাল উড়ে গেছে এবং বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের সময় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা ভীত ও দুশ্চিন্তায় পড়েন।

টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: আব্দুল বাছিত জানান, "ঝড়ে ইউনিয়নের অনেকগুলো ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে। বিভিন্ন সড়কসহ মানুষের বসতবাড়ির গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"

রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মুক্তাদির মনু বলেন, "আকস্মিক ঝড়ের আঘাতে রাউৎগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫-৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবানীপুর রাস্তার পাশে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে সীমানা প্রাচীর, পাকা রাস্তা এবং বৈদ্যুতিক লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।"

পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: সেলিম আহমদ চৌধুরী জানান, "ঝড়ের আঘাতে ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ও রবিরবাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে সড়কে পড়ে আছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগকে অবগত করা হয়েছে।"

কুলাউড়া বনবিভাগের বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, "হঠাৎ ঝড়ে কুলাউড়ার বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। বনবিভাগের তিনটি টিম ভেঙ্গে পড়া গাছ অপসারণ করে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।"

কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন জানান, "ঝড়ে সড়কের পাশের গাছ ভেঙে বিদ্যুতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক করতে কাজ চলমান আছে।"

এই সম্পর্কিত আরো