হাওরের বাতাসে ভেসে আসে সুরের মূর্ছনা, কালনীর ঢেউ যেন তাল মিলায় বাউলের তানে এমনই এক আবেগঘন পরিবেশে দিরাইয়ে শুরু হলো বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম লোক উৎসব।
গানের সুরে, স্মৃতির আবেশে আর লোকজ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে শাহ আব্দুল করিমের ১১০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাতে গানে গানে উদ্বোধন করা হয় দুই দিনব্যাপী এ লোক উৎসবের।
উপজেলার উজানধল গ্রামের মাঠে রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া-এর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শহীদ নুর-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার, দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ। এ সময় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসবস্থলে ভিড় জমান।
উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীরা পরিবেশন করেন বাউল সম্রাটের কালজয়ী গান আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, বসন্তে বাতাসে সইগো, কেনো পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদিসহ আরও জনপ্রিয় সঙ্গীত। সুর আর কথার মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী বলেন, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি এই বাংলার মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর গান গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ ও চিরন্তন বাস্তবতাকে গভীরভাবে তুলে ধরে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি শাহ আব্দুল করিমের গান শুনে আসছেন এবং আজও সেই টানেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উৎসবে উপস্থিত হয়েছেন। এ সময় দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎসবে আগত ভক্ত-অনুরাগীদের সুবিধার্থে রাত্রিযাপনের জন্য একটি ভবন নির্মাণের বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, লোকসংস্কৃতি আমাদের শেকড়ের পরিচয় বহন করে। শাহ আব্দুল করিমের গান ও দর্শন সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। এমন আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে ও নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসব শনিবার পর্যন্ত চলবে। এতে দেশ-বিদেশের বাউল শিল্পী, গবেষক ও ভক্ত-অনুরাগীদের অংশগ্রহণে চলবে গান, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।