সুনামগঞ্জের ছাতকে মসজিদের পবিত্র তহবিল লুটের প্রতিবাদ করায় সমাজসেবক ফজল মিয়া (৫০) হত্যাকাণ্ডের ২৪ দিন পার হলেও মামলার প্রধান দুই আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি মাসুকসহ দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত হারুন ও নুরই এখনো পলাতক। অভিযোগ উঠেছে, তারা গা ঢাকা দিয়ে থেকে নিহতের পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি একটি সাজানো পাল্টা মামলা দায়েরের পাঁয়তারা করছে।
সদ্য সমাপ্ত ঈদে চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখন পুরান নোয়াকুট গ্রামের ফজল মিয়ার বাড়িতে ছিল শোকের ছায়া। বাবাকে হারিয়ে তিন মেয়ে, দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা ঈদ কাটিয়েছেন চোখের পানিতে। স্থানীয়রা জানান, এতিম শিশুদের অসহায় অবস্থা দেখে এলাকার মানুষও ব্যথিত।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। হারুন মিয়া ২০০৫ সালের একটি ডাকাতি মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে নুরই মিয়া ২০০১ সালের জমির আলী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন, যা পরবর্তীতে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই অভিযুক্তরা এবারও পাল্টা মামলা দিয়ে নিহতের পরিবারকে আপসে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ অভিযোগ নাকচ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার ময়না মিয়া বলেন, “ঘটনার দিন এলাকায় কোনো লুটপাট হয়নি। এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট অভিযোগ।”
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সুহেল বলেন, “মসজিদের টাকা রক্ষায় প্রতিবাদ করায় ফজল মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। এখন অপরাধীরা নিজেদের রক্ষা করতে পাল্টা মামলা দিয়ে সাক্ষীদের হয়রানি করতে চাইছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে পুরান নোয়াকুট জামে মসজিদের প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় ফজল মিয়াকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আলতাব হোসেন বাদী হয়ে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে ছাতক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
খুনিদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গত ১০ মার্চ ছনবাড়ী বাজারে বিজিবি ক্যাম্পের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম বলেন, “দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতকদের ধরতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চলছে।”
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, “একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পলাতক আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পাল্টা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। এলে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দীর্ঘ ২৪ দিনেও প্রধান আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।