মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

সিসিক নির্বাচন: আলোচনায় ছাত্রদল নেতা হাজী দিনার

জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। শুরু হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের জোর আলোচনা। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুতই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার সরকারি সদিচ্ছার কথা জানানোর পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে হচ্ছেন—তা নিয়ে নগরজুড়ে চলছে নানামুখী সমীকরণ। সিসিকের টানা দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গত সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এবারের সিটি নির্বাচনে বিএনপিকে নতুন কোনো মুখকেই বেছে নিতে হবে। এই শূন্যতা পূরণে এবং দলের হাইকমান্ডের নজর কাড়তে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আগেভাগেই নিজেদের তৎপরতা শুরু করেছেন।

সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এখন পর্যন্ত তরুণ ও তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনারের নাম। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সমর্থকরা জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। তরুণ ভোটার ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত দিনার ছাত্রদলের রাজনীতিতে সফল নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। আরিফুল হক চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হতে তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে এই ছাত্রনেতা দলের টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে বিস্তর বিশ্লেষণ।

মেয়র পদে প্রার্থিতার বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন দিনার বলেন, রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। মহান আল্লাহতালার হুকুম হলে এবং দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তবে নগরবাসীর সেবা করার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। আমি বিশ্বাস করি, তারুণ্যের শক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সিলেটের উন্নয়নকে আরও আধুনিক ও বেগবান করা সম্ভব।

তবে মেয়র পদের দৌড়ে দিনার ছাড়াও দলটির একঝাঁক হেভিওয়েট ও অভিজ্ঞ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, যুগ্ম-সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাকিল মুর্শেদ।

দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভেতরে ভেতরে নিজেদের প্রস্তুতি সারছেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে জোর লবিং-তদবির। অভিজ্ঞ বনাম তারুণ্যের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ড কার ওপর ভরসা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনও ভেতরে ভেতরে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে সিসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন যে অচিরেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন সিলেটের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের দৃষ্টি কেবল বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার দিকে।

এই সম্পর্কিত আরো