সিলেটের বিয়ানীবাজারে আইনের তোয়াক্কা না করেই আবাদি জমির মাটি (টপ সয়েল) কেটে বিক্রির ধুম পড়েছে। এতে একদিকে যেমন আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি, অন্যদিকে ভারী ডাম্প ট্রাক চলাচলের কারণে ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের সরকারি রাস্তা ও ব্রিজ। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ট্রাক মালিক ও চালক এই অবৈধ মাটি ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার অন্তত ৩০টি স্পটে এক্সকাভেটর (ভেকু) বসিয়ে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ডাম্প ট্রাক ও সড়কে নিষিদ্ধ ট্রলি দিয়ে বিভিন্ন বসতবাড়ি, পুকুর ভরাট এবং ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ বা ‘টপ সয়েল’ কেটে নেওয়ায় জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে এবং ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এছাড়া মাটিবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের সময় সৃষ্ট ধুলোবালিতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
তিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, তার বাড়ির পেছনের সরকারি রাস্তা দিয়ে দিনরাত মাটিবোঝাই ভারী ট্রাক চলায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাটির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে ফসলি জমির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উপজেলায় ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, অবৈধভাবে মাটি পরিবহনে জড়িত থাকার দায়ে ইতিমধ্যে একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। মাটি কাটা ও অবৈধ পরিবহন বন্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরালো করা হবে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবীবা মজুমদার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। গ্রামীণ ছোট সড়কে ডাম্প ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তিনি আরও জানান, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে অবশ্যই অনুমোদনের প্রয়োজন। দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।