পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে চার বছর আগে পর্তুগালে পাড়ি জমিয়েছিলেন কামরুল ইসলাম (৩৮)। দীর্ঘ সংগ্রামের পর সম্প্রতি পেয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত স্থায়ী বসবাসের বৈধতা (রেসিডেন্সি)। কথা ছিল বৈধতা পাওয়ার পর দেশে ফিরবেন প্রিয়জনদের কাছে। কিন্তু কামরুল ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবন্ত নয়—প্রাণহীন নিথর দেহ হয়ে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পর্তুগাল থেকে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার হরিহরপুর গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত কামরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কামরুল প্রাণ হারান। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওপর থেকে সিমেন্টের বস্তা মাথায় পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কামরুলের অকাল প্রয়াণে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের মামা এবং জগন্নাথপুরের চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে কামরুল পর্তুগালে গিয়েছিল। দীর্ঘ চার বছর কঠোর পরিশ্রমের পর গত ১৭ জানুয়ারি সে পর্তুগালের স্থায়ী বসবাসের বৈধতা পায়। পরিবারটি যখন একটু আলোর মুখ দেখছিল, ঠিক তখনই এই নির্মম মৃত্যু সব শেষ করে দিল। তার এই চলে যাওয়ায় পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
উল্লেখ্য, চার বছর আগে পরিবারের ভাগ্য বদলাতে প্রবাসে পাড়ি জমানো কামরুলের পরিকল্পনা ছিল বৈধতা পাওয়ার পর দ্রুতই দেশে আসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চার বছরের অপেক্ষা শেষে তিনি ফিরলেন কফিনে বন্দি হয়ে।