একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবরে প্রথম প্রহরে ঢল নেমেছিলো সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন নানা শেণিপেশার মানুষ। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ। এতে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধগণ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পুষ্পস্তবক অর্পণে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়া একে একে শহীদ বেদীতে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ ও সর্বস্তরের মানুষ।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভাষা দিবস এদেশের জাতীয় জীবনের অনন্য এক দিন। এই দিবসে সর্বস্তরে মাতৃভাষা চর্চা হোক আগামীর অঙ্গীকার। শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকাল আটটায় প্রভাতফেরি আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। রিকাবীবাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে প্রভাতফেরি এসে মিলিত হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ১১টায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
এসব কর্মসূচিতে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হবে। দিবসটি উদযাপনে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় শহীদ মিনারে সামনের রাস্তায় আলপনাও আঁকা হয়েছে।
এছাড়া দিবসটিতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সারাদিন সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে পালিত হয়ে আসছে।