সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলাই নদীতে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মিত কোটি টাকার রাবার ড্যাম বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ড্যামের রাবার ব্যাগে লিকেজ দেখা দেওয়ায় পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় বোরো চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা চিলাই নদীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৫ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় সাড়ে চার মিটার উচ্চতার একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার কৃষকের চার হাজার একর জমি সেচের আওতায় আসার কথা ছিল। পাশাপাশি বছরে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রকল্পের আওতায় মাটি খনন, শিট পাইল ড্রাইভিং, বালি ভরাট, রাবার ড্যামের বেইজ নির্মাণ, উইং ওয়াল ও রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ, রাবার ব্যাগ স্থাপন, ফুটব্রিজ, পাম্প হাউজ, গভীর নলকূপ এবং অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ড্যামটি কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্যামের রাবার ব্যাগ ফেটে পানি বের হয়ে যাওয়ায় উজানে পানি জমছে না। ফলে প্রায় ১২০০ হেক্টর বোরো ফসলি জমিতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বোগলাবাজার ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের শতশত কৃষক পরিবার এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ পাম্পগুলোও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বিকল্প সেচ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন, যা তাদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের কারণ হচ্ছে।
চিলাইপাড় গ্রামের কৃষকরা জানান, ড্যাম নির্মাণের সময় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ড্যামটি সঠিকভাবে কাজ না করায় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং অনেকেই পানির সংকটে পড়ে চাষাবাদ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান বলেন, “রাবার ড্যামে লিকেজ হয়ে পানি বের হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১২০০ হেক্টর কৃষি জমি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছি।”
এ বিষয়ে বিএডিসির সেচের সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসনে আর রাফি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্যামটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত রাবার ড্যামটি মেরামত করে স্বাভাবিক সেচ কার্যক্রম চালু না হলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।