সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

সিলেটে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় হারিছ চৌধুরী কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আবুল হারিছ চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজীন চৌধুরী। বিশেষ করে আধুনিক, শিক্ষিত ও প্রগতিশীল তরুণ নেতৃত্ব এবং নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে তাঁকে সংসদে দেখতে চায় সিলেটের স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।

জানা যায়, প্রয়াত হারিস চৌধুরী কন্যা সামিরা তানজীন চৌধুরী মানবাধিকার বিষয়ক আইনজ্ঞ, শিক্ষগত যোগ্যতায় ব্যারিস্টার, যুক্তারাজ্যে সিনিয়র কোর্টের সলিসিটার এবং ব্রিটিশ লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে আইন পেশায় কর্মরত ছিলেন দীর্ঘদিন।

জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট বিএনপির একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে প্রয়াত বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে তাঁর হাত ধরে এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। আজ সময় এসেছে সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের যথাযথ মূল্যায়ন করার। হারিছ চৌধুরীর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ব্যারিস্টার সামিরা তানজীন চৌধুরী ইতিমধ্যেই তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ব্যারিস্টার সামিরা তানজীন চৌধুরী। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ নিয়ে জনমত গঠনে নিরলস কাজ করেছেন। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের প্রতিটি ঘরে ঘরে তিনি তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় গণমাধ্যম ও টেলিভিশন টক-শোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দলের লক্ষ্য ও ৩১ দফার যৌক্তিকতা জনগণের সামনে তুলে ধরে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন।

উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন সামিরা তানজীন চৌধুরী সরাসরি মনোনয়ন পাবেন। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে জোটের প্রার্থী দেওয়ায় তিনি ও তাঁর সমর্থকরা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দেন এবং জোটের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে রাজপথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। বর্তমানে তৃণমূলের দাবি—দল যেন এই ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রতিফলন হিসেবে তাঁকে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠায়।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সামিরা তানজিন চৌধুরী কেবল একজন রাজনীতিবিদের কন্যাই নন, তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যারিস্টার। তাঁর আইনি জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় ইস্যুতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এদিকে, সিলেট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সামিরা তানজীন চৌধুরী ছাড়াও আলোচনায় আছেন আরও কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান। এই তিন নেত্রীও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তাঁদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিছ চৌধুরী দীর্ঘ আওয়ামী লীগ শাসনে স্বৈারচারী আওয়ামী লীগ সরাকরের নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়ে করে গেছেন অন্যরকম এক সংগ্রাম। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তাঁর কন্যা সামিরা তানজিন চৌধুরী বাবার সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের ঝাণ্ডা নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

তৃণমূলের দাবি, সামিরা তানজিন চৌধুরীকে সংসদে পাঠানো হলে তা হবে তরুণ ও আধুনিক নেতৃত্ব তৈরির পথে বিএনপির এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

এই সম্পর্কিত আরো