হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয়ে দিনারপুর পরগনার ভোটারদের ভূমিকা এবারও বড় ছিল। রেজা কিবরিয়া মোট কাস্টিং ভোটের ৮০ ভাগ পেয়েছেন। নবীগঞ্জ ও বাহুবলে তাঁকে বিএনপি সরকারে মন্ত্রী করার দাবি উঠেছে। তাঁকে মন্ত্রী করা হলে দিনারপুর এলাকাবাসী তৃতীয় মন্ত্রী পাবেন।
এর আগে এই এলাকার সন্তান হিসেবে মন্ত্রী ছিলেন দেওয়ান ফরিদ গাজী ও শাহ এ এম এস কিবরিয়া। তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় রেজা কিবরিয়া থাকছেন বলে আলোচনা চলছে। দলের দায়িত্বশীল পদে থাকা অনেকেই এটি স্বীকার করেছেন। তবে রেজা কিবরিয়া কৌশলী বক্তব্য দিয়ে বলেছেন যে বিষয়টি তারেক রহমান ভালো জানেন এবং তিনি কিছুই জানেন না।
নবীগঞ্জের ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দিনারপুর পরগনা। এগুলো হলো দেবপাড়া, গজনাইপুর, পানিউমদা ও পুটিজুরি। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে তাদের ঐক্যবদ্ধতার একটি ভূমিকা থাকে। ওই এলাকার কেউ প্রার্থী হলে দিনারপুর পরগনাবাসীর কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তাদের সন্তানকে জয়ী করানো। সবাই দলমত নির্বিশেষে দিনারপুর পরগনার প্রার্থীকে ভোট দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সেই ঐক্যকে কাজে লাগান রেজা কিবরিয়া। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিনারপুর পরগনাবাসী এক সর্বদলীয় মিটিং করেন। সেখানে রেজা কিবরিয়ার পক্ষে স্লোগান তোলা হয় "দল যার যার, রেজা সবার"। পরগনাবাসী এই কথাকে কাজে পরিণত করেছে। গতকালের নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের শতকরা ৮০ ভাগ ভোট পেয়েছেন রেজা কিবরিয়া।
ওই এলাকার ঐক্যবদ্ধ ভোটে ব্যবধান যেমন বড় হয়েছে, তেমনি অন্য এলাকায়ও প্রভাব পড়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, দিনারপুর এলাকার ১১ নং গজনাইপুর ইউনিয়নের বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে রেজা কিবরিয়ার ধানের শীষ পেয়েছে ৯৯৭ ভোট। নিকট প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র শেখ সুজাত মিয়া ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ ভোট। কায়স্থগ্রাম সেন্টারে ধানের শীষ ৮২৯ ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ৭৫ ভোট এবং লোগাও সেন্টারে ধানের শীষ ৬৩৬ ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ৭৫ ভোট। ১০ দেবপাড়া ইউনিয়নের ঝিটকিয়া সেন্টারে ধানের শীষ পেয়েছে ৯৭৫ ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ১৭৪ ভোট। গোপলার বাজার সেন্টারে ধানের শীষ পেয়েছে ১০০৭ ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ২৯ ভোট। ভানুদেব সেন্টারে ধানের শীষ পেয়েছে ৯৯৬ ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ৫৯ ভোট।
১৩ নং পানিউমদা ইউনিয়নের পানিউমদা পূর্ব পাড়া সেন্টারে ধানের শীষ পেয়েছে ১১২২ ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ২৩৩ ভোট। পানিউমদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষ পেয়েছে ১০০২ ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ২১১ ভোট। এ ব্যাপারে ১০ নং দেবপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আকম ফখরুল ইসলাম কালাম বলেন, "আমি আমার বাড়িতে শবে বরাতের রাতে পরগনাবাসীকে নিয়ে একটি মিটিং করি। সেখানে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৭ ফেব্রুয়ারি দেবপাড়া বাজার পরগনাবাসী সিদ্ধান্ত নেন, আমরা দলমতের ঊর্ধ্বে রেজাকে সবাই মিলে ভোট দেব। পরগনাবাসী সেই ঐক্য ধরে রেখেই আমরা রেজা কিবরিয়াকে ঐক্যবদ্ধ ভোট দিয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "এর আগেও এরকম অনেক নির্বাচনে পরগনাবাসী ঐক্যবদ্ধতা দেখিয়েছেন। আমরা রেজাকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই।" পানিউমদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান বলেন, "আমরা দিনারপুরবাসী উন্নয়নের জন্য আমাদের পরগনার সন্তান হিসাবে রেজাকে 'দল যার যার, রেজা সবার' সেই স্লোগান মোতাবেক ৮০% ভোট দিয়েছি।
আশাবাদী এখন রেজাকে বিএনপি সরকারে মন্ত্রী করা হলে, তিনি আমাদের নবীগঞ্জ বাহুবলের উন্নয়ন করবেন।" ১১ নং গজনাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ বলেন, "আমরা দিনারপুরবাসী রেজাকে মন্ত্রী হিসাবে দেখার জন্যই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। তিনি শুধু দিনারপুর এলাকার সন্তান নন, সারা সিলেট বিভাগের একজন যোগ্য ব্যক্তি। তারেক রহমান যদি তাঁকে মন্ত্রী করেন, আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব।"
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, "হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া নির্বাচিত হলে এবং দল সরকার গঠন করলে তাঁকে মন্ত্রী বানানোর কথা রয়েছে। এখন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর সবকিছু নির্ভর করে।" এ ব্যাপারে নবনির্বাচিত এমপি ড. রেজা কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমাকে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ ভোট দিয়েছেন তাদের উন্নয়নের জন্য। আমি চেষ্টা করব সেই প্রতিফলন দিতে ইনশাআল্লাহ। আমাকে মন্ত্রী করা হবে কি না, সেটা আমাদের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছা।"
তিনি বলেন, "তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রী সভায় কারা থাকবেন জানবেন। তিনি কাদের ডাকবেন সেই আশায় সবাই রয়েছে, কাউকে অগ্রিম মন্ত্রী হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়নি।" হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন।
তাদের প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে, বিএনপির রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১১১৯৯৯ ভোট, খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী রিক্সা প্রতীকে ৫৬১৩২ ভোট, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ঘোড়া প্রতীকে ৩৪৬৩৭ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্টের বদরুর রেজা সেলিম চেয়ার প্রতীকে ৫২৭২ ভোট এবং বাংলাদেশ বাসদের কাজী তোফায়েল আহমদ মোটরগাড়ী (কার) প্রতীকে ৬৪৪ ভোট পেয়েছেন।