রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে এসে ভোটের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। তবে এবারের নির্বাচন সুনামগঞ্জ-২ দিরাই-শাল্লা আসনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একেবারেই ভিন্ন বাস্তবতায়। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। উল্টো দলটির পক্ষ থেকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করার প্রচারণাও চলছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এ অবস্থায় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা শঙ্কা। বিশেষ করে নীরব ও নিরপেক্ষ ভোটাররা কতটা কেন্দ্রে যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ভয়-ভীতির কারণে অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ-২ দিরাই-শাল্লা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখের বেশি। এর মধ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভোটারদের একটি বড় অংশ রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে না থাকায় এই ভোটাররা কতটা সক্রিয়ভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবেন, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা।
দিরাই উপজেলার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে আনা বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন,
জামায়াত সাধারণত তাদের সমর্থকদের কেন্দ্রে আনতে বেশ সংগঠিতভাবে কাজ করে। তাদের মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষিত কর্মী ও শক্ত নেটওয়ার্ক আছে। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে এবার সেই তৎপরতা ততটা চোখে পড়ছে না।
দিরাই উপজেলার এক প্রবীণ ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় অনেক মানুষই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক ভোটার কী করবেন, সেটা নিয়ে দ্বিধায় আছেন।
স্থানীয় বিএনপির এক নেতা স্বীকার করেন, ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভয়, অনিশ্চয়তা আর উদাসীনতা সব মিলিয়ে কাজটা সহজ না।
এদিকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ধারণা, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া জামায়াত তাদের ভোটারদের বড় একটি অংশকে কেন্দ্রে আনতে সক্ষম হবে। সেই তুলনায় বিএনপি পিছিয়ে পড়তে পারে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় প্রচারণার গতি কমে যাওয়ায় বিএনপির মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেও এক ধরনের গা-ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাঁরা বলছেন, যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নির্বাচনী লড়াইয়ে দলটি পিছিয়ে পড়বে এবং তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাবে জামায়াত। ফলে দিরাই-শাল্লা আসনে এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর আর সেই ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।