সিলেট-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্দাশীল নারীদের অবমাননা ও ভোটকেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটা ১৫ মিনিটের দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার মো. সারওয়ার আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে তারা জানান, ওই প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় বোরকা পরা নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বোরকা পরে কোনও নারী ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না গেলেও বোরকা খুলতে হবে। জামায়াত নেতারা এ বক্তব্যকে ইসলাম ধর্ম ও পর্দাশীল নারীদের প্রতি অবমাননাকর বলে দাবি করেন।
এরপর প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রের অপব্যবহার নিয়েও অভিযোগ তোলে। তাদের ভাষ্য, যুবলীগ ও বিএনপির কয়েকজন নেতা অবৈধভাবে সাংবাদিকদের পাস কার্ড সংগ্রহ করেছেন, যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা যায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যে দুজনের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। জামায়াত নেতারা দাবি জানান, যেন কেবল নিবন্ধিত ও প্রকৃত সাংবাদিকদেরই পরিচয়পত্র দেওয়া হয়।
সিলেট-১ আসনে নিজেদের এজেন্ট ও কর্মীদের হুমকির মুখে পড়ার কথাও জানান তারা।
অভিযোগ করা হয়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা এসব হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সিলেটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিলেট-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বোরকা পড়ে কেন্দ্রে আসুন। কিন্তু ভেতরে যেন বোরকা খুলে ভোট প্রদান করেন। এর কারণ হচ্ছে- অনেক ভোটারই জাল ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে পারেন। ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে এমন অভিযোগ চাউর হওয়ায় বিষয়টি নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জানিয়ে এসেছি।”
আরিফুল হক চৌধুরী যে এলাকা থেকে নির্বাচন করছেন সেটি হচ্ছে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা। তিনি অভিযোগ করেন- ইতোমধ্যে অনেকেই পুলিশের ভুয়া পোশাক তৈরি করছেন বলে অভিযোগ এসেছে। সীমান্তবর্তী অনেক কেন্দ্রই রয়েছে যেগুলোতে যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। কেউ কেউ ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে ওই সব এলাকায় বেশি সংখ্যক আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।